ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সাংবাদিকতার শত্রু নয়, বরং সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এটি সাংবাদিকদের সহায়ক শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এআই সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। মানুষের তথ্য জানার চাহিদা ও নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করেই সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি কক্সবাজার জেলার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত তিন দিনের 'এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ' কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর উদ্যোগে ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর প্রমুখ। প্রধান অতিথি ফারুক ওয়াসিফ বলেন, মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনের গল্পের বিশাল ভাণ্ডার হলো সংবাদপত্র। কিন্তু একটি সময়ে সংবাদজগৎ নানা কারণে বিষাক্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছিল। সেই সংকটের চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই নতুন বাস্তবতা হিসেবে হাজির হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি, যা সাংবাদিকতার জন্য নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল, সত্যনিষ্ঠ ও প্রযুক্তি-সচেতন হতে হবে। ফারুক ওয়াসিফ বলেন, এআই প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এআই সাংবাদিকতার শত্রু নয়, বরং দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারলে এটি সাংবাদিকদের শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। তবে এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে সংবাদে ব্যবহার করলে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য ফ্যাক্ট চেকিংয়ের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

তিনি বলেন, সংবাদপত্রকে একসময় রাষ্ট্র ও সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংবাদ ও তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় মানুষ যে তথ্য জানতে চায়, তা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিকতাকে আরও স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জনমুখী হতে হবে। পিআইবি মহাপরিচালক বলেন, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৮ হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের আধুনিক প্রযুক্তি, এআই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে আগামী দিনের সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই সাংবাদিকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে, শিখতে হবে এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনদিনের এই কোর্স সমন্বয় করেন জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত