
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন রাজউকের সেবাব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সরকার আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাজউকে আগে ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করতে মেইন ক্লিয়ারেন্স লাগত। এখন সেটি লাগে না। একবার যদি আপনার নামে মিউটেশন হয়ে যায়, তাহলে আর যেতে হবে না। সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল করা হচ্ছে। আমরা প্রচুর পরিমাণে ডিজিটালে যাচ্ছি। চেষ্টা করছি যেন যেকোনো পরিকল্পনা ২৪ দিনের মধ্যে পাস হয়। আমরা আপনাদের এতটুকু আশা দিতে পারি, আগের রাজউকের থেকে আগামী রাজউক অনেক পরিবর্তনশীল হবে।
গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুরে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আরও বেশি সেবা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনডিএ) গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়ে বলেন, এনডিএর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এ অঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে নগর উন্নয়নের কাজ করা হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেবা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজউকের সেবাব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজউকের আওতাধীন এলাকা বড় হলেও সে তুলনায় পর্যাপ্ত জনবল ছিল না। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সেবা সহজ করতে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এরইমধ্যে আমাদের সরকার আসার পরে রাজউকের যে একটি বড় সীমানা ছিল, সেই তুলনায় এত জনবল ছিল না। যার জন্য নতুন করে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। যেন স্থানীয়রা আরও বেশি সেবা পেতে পারে। মানুষকে সেবা দিতে গেলে জনবল লাগবে।
নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এনডিএর আইন পাস হয়েছে এবং কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। এনডিএ যে কর্তৃপক্ষ তৈরি হলো, এটি গণপূর্ত থেকেই হলো এবং এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্যই করা হয়েছে। যেন নারায়ণগঞ্জবাসী আরও বেশি সেবা পায়। একই সঙ্গে যেন একটি পরিকল্পিত নগর তৈরি করতে পারি।
রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের জন্য এনডিএ আলাদা বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে নগর উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এনডিএর সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়েও যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, কর্তৃপক্ষের একটি সীমানা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেটি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। ফতুল্লা ও সোনারগাঁসহ আশপাশের এলাকাগুলোও এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার এসবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছে। এই সিদ্ধান্ত গত সরকারের আমলে হয়েছে। যেকোনো প্রকল্প হতে সময় লাগে। এটি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এনডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে, দেখছি কী করা যায়। নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য সহজ ও বেশি সেবা নিশ্চিত করাই এনডিএ গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রমুখ।