
রংপুর নগরীতে তীব্র যানজট ও ফুটপাত দখলে ভোগান্তিতে নগরবাসী। সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি অটোরিকশা ও ফুটপাতে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় যেমন সড়কে অসহনীয় যানজটের দেখা দিয়েছে, তেমনি ফুটপাতে পথচারীদের পা ফেলার জায়গা নেই। এতে করে মাত্র ১০ মিনিটের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে ৪৫ মিনিটেরও বেশি।
এদিকে যানজট নিরসনে ও নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরতদের।জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে ৭ লাখ ৮ হাজার ৩৮৪ জন মানুষের বসবাস। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী। এসব মানুষদের প্রতিদিনই নগরীর তীব্র যানজট মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। আর এই যানজটের কারণে সময়মতো অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছেন না মানুষরা। এছাড়াও অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা দেয়া যানবাহনগুলোও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।
সরেজমিন দেখা যায়, রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে শুরু করে কাচারী বাজার পর্যন্ত তীব্র যানজট। বিশেষ করে অফিস টাইম ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির সময় এ যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে। এদিকে মেডিকেল মোড় এলাকার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিও বাজার এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির সময় অতিরিক্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। ওদিকে জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথা সড়কের ভঙ্গুর অবস্থার কারণে প্রায়ই লেগে থাকে যানজট। লালবাগ এলাকাতে সড়কের ওপরে রিকশা স্ট্যান্ড হওয়ায় সবসময় যানজটের দেখা মেলে। অন্যদিকে, নগরীর লালবাগ, জাহাজ কোম্পানি, পায়রা চত্ত্বর, বেতপট্টি, সুপার মার্কেট, সিটি বাজার, মডার্ণ মোড়, টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সড়কের ওপরে ও ফুটপাতে ভ্যান দাঁড় করিয়ে বা স্থাপনা নির্মাণ করে চলছে বিভিন্ন ব্যবসা। এসব দেখেও প্রশাসন যেন নীরব ভূমিকা পালন করছে। চাকরিজীবী এজাজ রিয়ন বলেন, বাসা থেকে আমার অফিস যেতে যেখানে মাত্র ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে আধঘণ্টা লেগে যায়। প্রতিদিন অফিস যেতে দেরি হয়। গতমাসে দেরি করে যাওয়ার জন্যে আমার তিনদিনের বেতন কেটে নেয়। পায়রা চত্ত্বরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহরে অনেক বেশি অটোরিকশা হয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে দেয়া অটোরিকশার একটি লাইসেন্স দিয়ে একাধিক যানবাহন চলছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী সাইয়াদ্বীন জাহিন বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো ফুটপাতে দোকানপাট গড়ে উঠছে। আমরা চলাচল করব কীভাবে? আবারও এই অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিলে তখন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা কীভাবে সংসার চালাবে। এর একটি ভালো সমাধানের প্রয়োজন।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এ্যাড. পলাশ কান্তি নাগ বলেন, তীব্র যানজটে জনজীবন অতিষ্ঠ। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে জনসাধারণের মধ্যেও ট্রাফিক পুলিশ আইন অমান্যের প্রবণতা লক্ষণীয়। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি। অপরদিকে হকারদের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সুবিধাজনক জায়গায় তাদের পুনর্বাসন করে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, যেসব অটোরিকশার লাইসেন্স নেই, সেগুলোকে জব্দ করাসহ রংপুর নগরীর বাইরে থেকে আসা অটোরিকশা যাতে নগরীতে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।