ঢাকা রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গৌরীপুর-হোমনা সড়কের ৯ কিলোমিটার বেহাল

পাঁচ উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ
গৌরীপুর-হোমনা সড়কের ৯ কিলোমিটার বেহাল

কুমিল্লার গৌরীপুর-হোমনা সড়কের তিতাস অংশের প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা এখন পাঁচ উপজেলাবাসীর চলাচলে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। বাঞ্ছারামপুর থেকে হোমনা, তিতাস হয়ে দাউদকান্দির গৌরীপুর মোড় পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১টি ও কুমিল্লা জেলার ৪টি উপজেলাবাসী যাতায়াত করে এবং অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সংযোগকারী হিসেবে এই আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরেজমিন দেখা যায়, হোমনার শেষপ্রাপ্ত বঞ্চবটি সেতুর পর থেকে বাতাকান্দি বাজার, বাতাকান্দি বাজারের সিসি ঢালাইয়ের পর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংযোগ সড়ক থেকে কড়িকান্দি বাজার পর্যন্ত, মৌটুপী থেকে তিতাসের শেষপ্রান্ত জিয়ারকান্দি সেতু পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার এই আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশই বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। এইসব স্থানের বেশিরভাগ অংশে পিচ উঠে ছোট বড় হাজার হাজার গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কড়িকান্দি বাজার থেকে উপজেলা পরিষদ সংযোগ সড়কের মধ্যে দু'টি বড় গর্ত যেখানে একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। কিছু কিছু গর্ত সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বৃষ্টির ফলে তা আরও বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে গৌরীপুর-তিতাস-হোমনা ভায়া বাঞ্ছারামপুরের ৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এই সড়কটি ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা এবং কুমিল্লার মুরাদনগর, হোমনা, মেঘনা ও তিতাস উপজেলার মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট থাকলে বিকল্প সড়ক হিসেবে এটি ব্যবহার করে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরী পার হয়ে ভুলতা হয়ে অনেক পরিবহন ঢাকা যাতায়াত করে। বিশেষ করে হোমনা থেকে উক্ত আরেকটি সংযোগ সড়কের মাধ্যমে এটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ককে একত্রিত করেছে। ফলে এই অঞ্চলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই অঞ্চলের হাজার হাজার ব্যবসায়ী এই সড়কের অপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি ছাড়া আর কোন বিকল্প সড়ক নেই। রাস্তা ভাঙ্গাচুড়ার কারণে কয়েকদফা ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বাতাকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী শাহআলম জানান, আগে মাল আনতে ট্রাক ভাড়া যা দিতাম তার চেয়ে এখন ২০০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। সড়কের নাম শুনলে পরিবহন আসতে চায় না, তাই বাধ্য হয়ে বেশি টাকায় পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। কড়িকান্দি গ্রামের সিএনজি চালক জসিম ও কুমিল্লা একতা বাস সার্ভিসের চালক হারুন মিয়া ও ঢাকা-হোমনা সুপার সার্ভিসের চালক মোহাম্মদ আলী জানান, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাই। গর্তগুলো এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় রাস্তার মাঝখানে যেতে হয়। তখন বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। গাড়ির যন্ত্রপাতিও অনেক নষ্ট হচ্ছে। গর্তের কারণে ঝাঁকুনিতে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। কিছু কিছু স্থানে প্রচুর গর্ত থাকায় গর্ত এড়িয়েও বাস চালানো যায় না, তখন যাত্রীদের বকুনি শুণতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি দিকে সড়কটি সংস্কার করা হলেও তিন বছর না যেতেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। কাজের মান নিয়ে তখন প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে নিম্নমানের কাজের কারণে ধীরে ধীরে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের গৌরীপুর অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, এই সড়কটি সংস্কারের জন্য এরইমধ্যে আমরা প্রস্তাব পাঠিয়ে ছিলাম। এটা অনুমোদন হয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া গেছে। খুব দ্রুত সময়ে এর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে আশা করি সংস্কার কাজ শুরু হবে। যেসব স্থানে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো আমরা ক্ষুদ্র মেরামতের আওতায় সংস্কার করে আসছি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত