
জমি-সংক্রান্ত একটি অভিযোগের বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদারের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মো. মতিউর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিচারাধীন এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা একটি জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একতরফাভাবে বিষয়টির বিচার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জেলা বিএনপির চিঠিতে বলা হয়েছে, বিচারাধীন এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের কার্যক্রম দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক আচরণ ও দলের ভাবমূর্তির পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি জেলা বিএনপি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এ অবস্থায় অভিযোগের বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকন কুদ্দুসুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ধরনের সালিশি বাণিজ্য করা যাবে না। তবে দীর্ঘদিন কুয়াকাটা পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় বিভিন্ন ভুক্তভোগী পরিবার সহযোগিতার জন্য তাদের কাছে আসে। সে কারণে দুই পক্ষকে বসিয়ে বিষয়গুলো মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে এবং বিষয়টি তাদের কাছে গোপন রেখেছে। ফলে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তারা জানতেন না।
মতিউর রহমান হাওলাদার আরও বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেবেন।