
ফরিদপুর জেলা পরিষদের দুটি স্থাপনার ছাদে ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। নেট মিটারিং পদ্ধতিতে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নেওয়া এ উদ্যোগকে জেলার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) ফরিদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। দুটি স্থাপনায় মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী ২০ বছর এসব প্ল্যান্টের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শেখ শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রবীর কান্তি বালা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের এ উদ্যোগ সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।