ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দেবহাটায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

দেবহাটায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামের এক যুবককে দুই দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল সানা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ফজলুল হক আমিনীকে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- দেবহাটার নাজিরের ঘের এলাকার মাহাতাব উদ্দীন খাঁর ছেলে মোক্তার হোসেন ও রহিম বক্স মোল্যার ছেলে আসাদুল মোল্যা । নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে।

নিহতের ছোট ভাই তৌসিফ রহমান সাগর বলেন, শামীম মাদরাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার আট বছর ও সাত মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক নানা অশান্তির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সাগরের ভাষ্য, সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের কথা-কাটাকাটি হয়। ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শামীম বিষপান করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে তাকে কুলিয়া এলাকার পল্লিচিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় দেবহাটার কথিত তৌহিদী জনতার নেতা ফজলুল হক আমিনী ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন এবং লোকজনকে জড়ো হতে উসকানি দেন বলে অভিযোগ করেন সাগর। এরপর একদল লোক ওই চেম্বারে ঢুকে শামীমের ওপর প্রথম দফায় হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সাগরের অভিযোগ, রাত ৯টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে সেখানে দ্বিতীয় দফায় হামলা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শামীমকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাগর বলেন, তার ভাই কোনো অপরাধ করে থাকলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন তিনি। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল সানা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। শুক্রবার ভোররাতে সুবর্ণাবাদ এলাকা থেকে মোক্তার হোসেন খানকে এবং নাজিরের ঘের এলাকা থেকে আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ওসি আরও বলেন, ফেসবুকে লাইভ করে শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোকজন জড়ো করার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীর ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য, ডিজিটাল প্রমাণ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত