ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিদ্যুৎ সংকটের শিকড় সন্ধানে

মো. শাহিন আলম, কলামিস্ট ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিদ্যুৎ সংকটের শিকড় সন্ধানে

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সারা দেশে যে তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে, তা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে কোনো নতুন বিপর্যয় নয়। একে বর্ণনা করা যেতে পারে ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদের’ মতো এক পরিচিত দুর্ভোগের ঋতু হিসেবে। যখন চৈত্র-বৈশাখের তপ্ত রোদে জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ বিভ্রাট গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকাগুলোকে এক প্রকার অচল করে দিয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লার গ্রামাঞ্চলে মানুষ দিনে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও এই চিত্র আরও ভয়াবহ, যেখানে রাতের অধিকাংশ সময় কাটে অন্ধকারে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সরকারি তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঘাটতি ১,৮৪০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। তবে রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন বোর্ড (আরইবি)-এর মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা; তাদের হিসেবে শুধু গ্রামাঞ্চলেই ঘাটতি ২,৮০০ মেগাওয়াটেরও বেশি। এই পরিসংখ্যানগত পার্থক্যই বলে দেয়, সংকটের গভীরতা যতটা প্রকাশ করা হচ্ছে, বাস্তবে তা আরও প্রকট।

বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ বুঝতে হলে আমাদের প্রথমেই একটি গাণিতিক ধাঁধার মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯,০০০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮,৫০০ মেগাওয়াটের আশপাশে থাকে। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে আমাদের সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দেড়গুণ। সাধারণ যুক্তিতে দেশে কোনো লোডশেডিং থাকার কথা নয়, বরং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমানে দেশ উৎপাদন করতে পারছে মাত্র ১২,০০০ থেকে ১৪,০০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ মেগাওয়াটে। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, দেশের ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৭১টিরও বেশি কেন্দ্র হয় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, নয়তো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অনেক নিচে চলছে। এই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন করতে না পারাটাই হলো বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানির তীব্র অভাব। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক। এই কেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ১,২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই যে ৩০০ মিলিয়নের ঘাটতি, তা সরাসরি কয়েক হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। কেন এই গ্যাস সংকট পেট্রোবাংলার অভ্যন্তরীণ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বছরের পর বছর ধরে স্থলভাগ ও সমুদ্রবক্ষে নতুন গ্যাস কূপ খননের তাগিদ দিয়ে এলেও সেখানে বিনিয়োগ না করে জোর দেওয়া হয়েছে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর। যখনই আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়েছে বা ডলার সংকট দেখা দিয়েছে, তখনই দেশের বিদ্যুৎ খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এটি শুধু একটি কারিগরি সংকট নয়, বরং নীতিগত ব্যর্থতা।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। পায়রা ও রামপালের মতো বিশাল ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো যখন পূর্ণ সক্ষমতায় চলে, তখন জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীলতা থাকে। কিন্তু মাসের পর মাস বকেয়া পরিশোধ না করায় ইন্দোনেশিয়া বা অন্যান্য সরবরাহকারীরা কয়লা পাঠানো বন্ধ বা সীমিত করে দিয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রগুলো তাদের সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার করতে পারছে না। অন্যদিকে, বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা প্রায় ৫,০০০ মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২,০০০ মেগাওয়াট। বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) তথ্যমতে, যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাওয়া যেত, তবে এই খাত থেকেই আরও ২,০০০ থেকে ২,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব হতো। কিন্তু উদ্যোক্তারা তেল কিনতে পারছেন না, কারণ সরকারের কাছে তাদের প্রায় ১৬,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া পাওনা আটকে আছে।

বকেয়ার প্রশ্নটি এখানে কেন্দ্রীয় এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে মোট বকেয়ার পরিমাণ এখন ৪৭,০০০ থেকে ৫২,০০০ কোটি টাকার মধ্যে, যা বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমান। এই বিশাল দায়ের ভার বহন করতে গিয়ে সরকার এখন দিশাহারা। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলারের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় ও বিদেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা মেটানো যাচ্ছে না। এলএনজি সরবরাহকারীদের বকেয়া পৌঁছেছে প্রায় ২০ কোটি ডলারে। এমনকি ভারতের আদানি পাওয়ারের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহও হুমকির মুখে পড়েছে, কারণ পাওনা পরিশোধে ধারাবাহিক বিলম্ব হচ্ছে। অর্থাৎ এটি একটি দুষ্টচক্র, যেখানে বকেয়া থেকে জ্বালানি সংকট, জ্বালানি সংকট থেকে উৎপাদন হ্রাস, আর উৎপাদন হ্রাস থেকে আরও বকেয়া। এই চক্রের আবর্তে পড়ে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে।

এই সংকটের নেপথ্যে যে আইনি ও নীতিগত কাঠামোটি সবচেয়ে বেশি দায়ী, তা হলো ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও সরকার তাদের একটি নির্ধারিত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য থাকে, শুধুমাত্র তারা ‘প্রস্তুত’ আছে এই যুক্তিতে। বিশ্বের অনেক দেশে এই পদ্ধতি থাকলেও বাংলাদেশে এর প্রয়োগ হয়েছে অত্যন্ত অস্বচ্ছ এবং বৈষম্যমূলকভাবে। চুক্তির শর্তগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যে, অনেক কেন্দ্রের মালিক বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে কেন্দ্র বসিয়ে রাখতেই বেশি আগ্রহী থাকেন, কারণ তাতে কোনো জ্বালানি খরচ ছাড়াই নিশ্চিত মুনাফা পাওয়া যায়। ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের তথ্যমতে, গত ১৫ বছরে বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে ১৩ গুণ বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সিংহভাগই করা হয়েছে ক্যাপাসিটি চার্জের বিশাল বোঝা মেটানোর জন্য। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বারবার দেখিয়েছে যে, এই ব্যবস্থায় হাজার হাজার কোটি টাকা গুটিকতক মালিকের হাতে চলে গেছে। এই অর্থ যদি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বা নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ করা হতো, তবে আজ বাংলাদেশকে ডলার হাতে নিয়ে বিদেশের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো না।

নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে চান। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বা ইন্দোনেশিয়ার কয়লা রপ্তানি নীতি অবশ্যই প্রভাব ফেলে, কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয়। ২০২২ সালের যুদ্ধের পর জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য চার বছর সময় ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা তিনগুণ বাড়িয়েছে, অথচ বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ এখনো মোট উৎপাদনের মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশের নিচে পড়ে আছে। আমরা না পারলাম দেশীয় গ্যাস তুলতে, না পারলাম বিকল্প জ্বালানির উৎস নিশ্চিত করতে। এই ব্যর্থতাটি শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যর্থতা, যেখানে আমদানিনির্ভর সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে গিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এখন অপূরণীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমান সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ না পেয়ে কৃষক ডিজেলচালিত পাম্পের দিকে ঝুঁকছেন। এতে কৃষি উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়ছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে চাল, ডাল ও সবজির বাজারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি ঘণ্টার লোডশেডিং কৃষকের পকেটে যে বাড়তি চাপ তৈরি করে, তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর খাদ্যমূল্য হিসেবে চেপে বসে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উদ্যোক্তারা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রাখছেন অথবা জেনারেটর চালাতে গিয়ে মুনাফা হারাচ্ছেন। বিসিসিআই-এর জরিপ বলছে, প্রতি ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ উৎপাদন হারায়। পোশাক খাতের মালিকরা অভিযোগ করছেন যে, সময়মতো পণ্য উৎপাদন করতে না পারায় তারা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারাচ্ছেন এবং শিপমেন্টে দেরি হওয়ার কারণে বড় অংকের ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো এই লোডশেডিংয়ের বৈষম্যমূলক বণ্টন। ঢাকার গুলশান, বনানী বা বারিধারায় লোডশেডিং নেই বললেই চলে, কিন্তু তার কয়েক মাইল দূরেই ঢাকার বাইরে গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ যেন সোনার হরিণ। রাজধানীকে শান্ত রাখা এবং অভিজাত শ্রেণির তুষ্টির জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বলি দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্য শুধু অবিচার নয়, এটি রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) বা জরুরি বিভাগে যখন বিদ্যুৎ থাকে না এবং জেনারেটর ব্যাকআপ ফেল করে, তখন যে মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তার হিসাব কোনো পরিসংখ্যানে থাকে না।

এই সংকট থেকে বের হতে হলে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি- উভয় ধরনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। স্বল্পমেয়াদে, বকেয়া পরিশোধে অগ্রাধিকার দিয়ে তেলভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রগুলো সচল করতে হবে এবং জ্বালানি আমদানির জন্য ডলারের বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, লোডশেডিংয়ের ভার ঢাকা ও গ্রামের মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে, আমাদের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি থেকে সরে আসতে হবে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তিকে আর ‘বিলাসী প্রজেক্ট’ হিসেবে না দেখে মূল গ্রিডের অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে। বাংলাদেশের বিশাল ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উৎপাদকে পরিণত করা সম্ভব। সর্বোপরি, ক্যাপাসিটি চার্জের মতো জনবিরোধী চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে ‘উৎপাদন নেই তো পেমেন্ট নেই’- এই নীতি কার্যকর করতে হবে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট কোনো কারিগরি ত্রুটি নয় বরং এটি ভুল নীতি, আমদানিনির্ভর সিন্ডিকেট এবং অস্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফলাফল। বর্ষা নামলে হয়তো সাময়িক স্বস্তি আসবে; কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে প্রতি বছরই আমাদের এই একই আলোচনার পুনরাবৃত্তি করতে হবে। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে বিদ্যুৎ খাতের রাজনৈতিক অর্থনীতির খোলনলচে বদলে ফেলা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত