ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক অনাচার

আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক অনাচার

একটি পরিকল্পিত নগরীর মূল শর্তই হলো- এর আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার সুনির্দিষ্ট বিভাজন। কিন্তু রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশানের মতো ঐতিহ্যবাহী ও পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাগুলোর দিকে তাকালে আজ আর বোঝার উপায় নেই- সেগুলো মানুষের শান্তিতে বসবাসের জায়গা, নাকি কোনো ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শোরুম, রেস্তোরাঁ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে এসব এলাকার আবাসিক মর্যাদা আজ পুরোপুরি ভূলুণ্ঠিত। আবাসিক ভবনে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ফলে তীব্র যানজট, পার্কিং সংকট, শব্দদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় এখন প্রতিদিনের নাগরিক ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। এই অনিয়ন্ত্রিত অনাচার আর বরদাস্ত করা যায় না।

এই পটভূমিতে ধানমন্ডিতে আর ‘যত্রতত্র’ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার এবং অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও আশাব্যঞ্জক। ১৯৯৫ সালের নীতিমালার পরিপন্থি যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে রাজউক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।

তবে শুধু ধানমন্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, ঢাকার অন্যান্য আবাসিক এলাকায়ও যাতে এই বাণিজ্যিকীকরণের বিষবৃক্ষ ছড়িয়ে না পড়ে, তার আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ভবিষ্যৎ নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ (বিবিআরএ) ও রাজউকের মাস্টার প্ল্যানের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো নতুন অনুমোদনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পার্কিং, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব এবং ট্রাফিক বিভাগের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। তবে মনে রাখতে হবে, অতীতেও এমন অনেক ভালো সিদ্ধান্ত তদারকি ও সদিচ্ছার অভাবে আলোর মুখ দেখেনি।

এবার নতুন যে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যেই অংশীজনদের মতামত নিয়ে একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক খসড়া নীতিমালা জমা দিতে হবে।

আবাসিক এলাকার শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।

আমরা আশা করি, শুধু কাগজ-কলমে নীতিমালা সংশোধন নয়, বরং মাঠপর্যায়ে এর কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ধানমন্ডিসহ সব আবাসিক এলাকার হারিয়ে যাওয়া পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল নাগরিক জীবন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। সরকার এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো মহলের চাপের মুখে আপস করবে না- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত