ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মানবতার সেবা পরম ধর্ম

মাহমুদ আহমদ
মানবতার সেবা পরম ধর্ম

পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস ও ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগ, দুর্দশা ও হতাশায় দিন কাটছে লাখ লাখ মানুষের। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাড়িতে ফিরলেও দুর্ভোগ শেষ হয়নি।

এমন দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। এসব বন্যাদুর্গত মানুষ সবার আগে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটে পড়ে।

একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে আসবে- এটাই মানবতা, আর এটাই ধর্মের শিক্ষা। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করেন না, যে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না। (বুখারি ও মুসলিম)

জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সকলের প্রতি, এমনকি অপরাপর জীবজন্তুর প্রতিও দয়া প্রদর্শন করাই ধর্মের শিক্ষা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো দলমতনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টগুলো থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে, কেয়ামতের কষ্টগুলো থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)।

আমাদের দেশের মানুষ অনেক আন্তরিক। বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর অগণিত দৃষ্টান্ত আমাদের রয়েছে। আমরা আশা করব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের যেকোনো মুহূর্তে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একে অন্যের সহায়তায় হাত বাড়াতে কেউ পিছপা হবেন না।

মানবসেবার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবি (সা.) বলেছেন, কেয়ামত দিবসে নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা বলবেন, হে আদমসন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমার শুশ্রূষা করোনি। বান্দা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আপনি তো বিশ্বপালনকর্তা। কীভাবে আমি আপনার শুশ্রুষা করব? তিনি বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি? তুমি কি জান না, যদি তুমি তার শুশ্রুষা করতে, তবে তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে?

মাহমুদ আহমদ

লেখক : প্রাবন্ধিক ও ইসলামী চিন্তাবিদ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত