ঢাকা রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সন্তানের মেধা বিকাশে মা-বাবার ভূমিকা

রাকিফা রত্না
সন্তানের মেধা বিকাশে মা-বাবার ভূমিকা

একটি শিশুর জীবন যেন এক টুকরো সাদা কাগজের মতো, যেখানে তার ভবিষ্যতের ক্যানভাসটি কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে মা-বাবার তুলির আঁচড়ের ওপর। সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের চিরন্তন সত্য হলো পরিবারই শিশুর প্রথম শিক্ষালয় আর মা-বাবাই তার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সন্তানের সুপ্ত মেধা, চিন্তাশক্তি ও সুকুমার বৃত্তিসমূহের বিকাশে মা-বাবার ভূমিকা কেবল গুরুত্বপূর্ণই নয়, বরং অনস্বীকার্য।

?শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক বিকাশের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে ঘর থেকেই। মা-বাবার পারস্পরিক সুসম্পর্ক, স্নেহ এবং ইতিবাচক আচরণ শিশুকে মানসিকভাবে দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু যখন কোনো নতুন আইডিয়া শেয়ার করে বা সৃজনশীল কিছু করার চেষ্টা করে, তখন মা-বাবার সামান্য প্রশংসাই তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, পারিবারিক শৃঙ্খলা, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি ভালোবাসা দেখে শিশু নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক শিষ্টাচার শেখে, যা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যবই দিয়ে পুরোপুরি সম্ভব নয়।

?বর্তমান যুগে সন্তানের মেধা বিকাশের বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘরে পড়াশোনার একটি আনন্দময় ও ভীতিহীন পরিবেশ সৃষ্টি করা। জিপিএ ৫ পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমে সন্তানের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মা-বাবার মূল দায়িত্ব হলো- সন্তানের নিজস্ব আগ্রহ, মেধা ও সুপ্ত প্রতিভাকে চিহ্নিত করে তাকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট ডিজিটাল ডিভাইসের অপব্যবহার ও স্ক্রিন আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তির সঠিক ও শিক্ষণীয় ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের কৌতূহলী প্রশ্নের ইতিবাচক জবাব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

?তবে সন্তানের শিক্ষাজীবনে শতভাগ সাফল্য নিশ্চিত করতে কেবল পারিবারিক সচেতনতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বিদ্যালয় ও পরিবারের মেলবন্ধন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের দিকনির্দেশনা আর বাড়িতে মা-বাবার নিয়মিত তদারকির সমন্বয় ঘটলে শিশুর পড়াশোনার ভয় দূর হয়। শিক্ষক ও অভিভাবকের এই নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বিত প্রয়াস সন্তানকে একজন ভালো শিক্ষার্থীর পাশাপাশি একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মেধা কেবল জন্মগত কোনো বিষয় নয়, সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে একে বিকশিত করতে হয়। মা-বাবার ভালোবাসার ছায়া, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং ধৈর্যশীল আচরণই পারে একটি শিশুকে আগামী দিনের যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। তাই সন্তানকে শাসন বা চাপ দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তার স্বপ্নের আকাশকে আরও বড় করতে সাহায্য করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

রাকিফা রত্না

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত