ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে

বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে

বাজারে স্বস্তি নেই, বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্তের চলমান জীবন বাস্তবতা এটাই। এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে এ শ্রেণির মানুষকে। অথচ পরিসংখ্যানের অঙ্ক বলছে, দেশে মূল্যস্ফীতি কমেছে! বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী রয়েছে। গত জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। জুনে যা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। একই সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। কিন্তু বাজারে গিয়ে এ চিত্রের সঙ্গে মিল পাচ্ছে না ভোক্তারা। মূল্যস্ফীতির এ পরিসংখ্যানে স্বস্তির বার্তা থাকলেও বাস্তবে খাবারের পেছনে ভোক্তাদের খরচের চাপ কমেনি। দ্রব্যমূল্যের খরচ সামাল দিতে খেই হারিয়ে ফেলছে বেশিরভাগ মানুষ। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদাসহ কয়েক ধরনের মসলা ছাড়া বছরের ব্যবধানে সব পণ্যের দামই বেড়েছে।

মনে রাখতে হবে, মূল্যস্ফীতির হার কমা মানেই পণ্যের দাম কমবে- এমনটা নয়। কারণ দাম যে গতিতে বাড়ে, সেই বৃদ্ধির গতি যদি কিছুটা কমে, তাহলে মূল্যস্ফীতি কমলেও জীবনযাত্রার ব্যয় আগের তুলনায় কমে না। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আরও একটি দিক বিবেচনায় নিলে পরিস্থিতি বোঝা একটু সহজ হতে পারে। সেটা হচ্ছে, আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান। পরিসংখ্যান বলছে, জুলাইয়ে যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, সেখানে গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। ফলে এটিও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমারই সূত্র।

এ ছাড়া টানা ৫৩ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকাও বাজারে অস্বস্তির একটি বড় কারণ। এদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এক গবেষণা বলছে, ৬০ শতাংশের বেশি পরিবার আয়ের অন্তত অর্ধেক খাবারের পেছনে ব্যয় করে। নিম্নআয়ের মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পেছনে ব্যয়ের চাপ আরও বেশি। খাদ্যের দাম বাড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদায় ব্যয় কমাতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে বছরের ব্যবধানে প্রয়োজনীয় অনেক নিত্যপণ্যের পেছনে বেড়েছে ভোক্তার খরচ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজার খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন-সীমিত আয়ের মানুষ। সাশ্রয়ী হতে পরিবারের খাবারের তালিকা করতে হচ্ছে ছোট। বাদ পড়ছে মাছ, মাংস, ডিম, দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার। এর মধ্যে নতুন করে বাড়ছে আটা, ভোজ্যতেল, চিনি ও দুধের দামও, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আমরা মনে করি, যে কোনো উপায়ে দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি আনার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে, শুধু খাতাণ্ডকলমে মূল্যস্ফীতি কমলেই চলবে না, তার প্রতিফলন থাকতে হবে বাজারেও। এ লক্ষ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে আনতে হবে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নতিতে জোর দিতে হবে। এ ছাড়া ভুলে গেলে চলবে না, মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত তার ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি। ফলে এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা জরুরি।

সুতরাং বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি দৌরাত্ম্য রয়েছে সর্বদা। তাদের কারসাজির পাশাপাশি রুখতে হবে চাঁদাবাজি। আমাদের প্রত্যাশা, বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও বিরাজমান ত্রুটি নিরসনে সরকার কঠোর হবে। মূল্যস্ফীতি কমার পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাজারেও মিলবে স্বস্তি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত