অনলাইন সংস্করণ
১৪:০৪, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
কোনো কনসার্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার পেছনে নিরাপত্তা ইস্যুসহ নানা কারণ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী। তার মতে, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি সরকারের অসহযোগিতা বা আপত্তির ফলাফল হিসেবে দেখাটা সমীচীন নয়।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কোনো মানসিকতা সরকারের নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু আলেম-ওলামার বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোনো কনসার্ট বাতিল হয়ে গেলেই যে ধরে নিতে হবে সরকার সেখানে সহযোগিতা করেনি, বিষয়টি এমন নয়। হতে পারে সেখানে নিরাপত্তাজনিত কোনো উদ্বেগ ছিল অথবা অন্য কোনো বাস্তব কারণ কাজ করেছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় নানা কারণেই কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল হতে পারে। সব ক্ষেত্রেই যে কারও আপত্তির কারণে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, এমনটা মনে করার সুযোগ নেই। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হলে সেই বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে নিয়মিতভাবেই অনেক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এমনকি বড় পরিসরের আয়োজনও চলছে। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট শঙ্কা থাকলে সেই ক্ষেত্রটিকে আলাদাভাবেই মূল্যায়ন করতে হয়।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার মতো কোনো চিন্তাভাবনা নেই এবং এ ধরনের কোনো মানসিকতাও তারা লালন করেন না।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো নিয়ে আরও স্পষ্ট নীতিমালা ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সহজ হবে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।