ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সাংস্কৃতিক অর্থনীতি : সৃজনশীলতা ও সচ্ছলতার নতুন দিগন্ত

ড. লিপন মুস্তাফিজ
সাংস্কৃতিক অর্থনীতি : সৃজনশীলতা ও সচ্ছলতার নতুন দিগন্ত

অর্থনীতি বলতে সাধারণত আমাদের মানসপটে যে শব্দগুলো ভেসে ওঠে তা হলো- চাহিদা ও যোগান, জিডিপি, প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, বাজারের ভারসাম্য, মুদ্রাস্ফীতি কিংবা মূল্যস্ফীতি। এর পাশাপাশি থাকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক আর্থিক কার্যক্রম। এসবই যেন অর্থনীতির ওঠানামা বুঝতে পারার প্রধান মানদণ্ড। প্রাত্যহিক জীবন থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য, পরিসংখ্যান ও ডেটার ভিত্তিতেই অর্থনীতির বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণ পরিচালিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো- মানুষের জীবন কেবল সংখ্যার হিসাব-নিকাশ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব নয়।

অর্থনৈতিক আচরণের পেছনে কাজ করে আরও গভীর ও জটিল কিছু মানবিক উপাদান। মানুষের রুচি, অভ্যাস, সামাজিক আচরণ, বিশ্বাস, আনন্দ এবং স্মৃতি- এসবই তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। একজন মানুষ কীভাবে ভোগ করবে, কীভাবে বিনিয়োগ করবে, কিংবা কোন পণ্যকে মূল্যবান মনে করবে- এসব কিছুর পেছনে শুধু অর্থনৈতিক যুক্তি নয়, বরং তার মনস্তত্ত্ব ও সংস্কৃতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই অর্থনীতির প্রকৃত চালিকাশক্তি শুধু সংখ্যা নয়, বরং মানুষের জীবনবোধ ও সংস্কৃতির গভীরে নিহিত। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে গড়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক অর্থনীতি, যা অর্থনীতিকে আরও মানবিক, বাস্তব ও বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার সুযোগ দেয়। কালচারাল ইকনোমিক্স বা সাংস্কৃতিক অর্থনীতি হলো- অর্থনীতির একটি বিশেষ শাখা, যা শিল্পকলা, সাহিত্য, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্প বা ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অধ্যয়ন করে। এটি মূলত সাংস্কৃতিক পণ্যের সৃষ্টি, বণ্টন, ভোগ এবং অর্থনৈতিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করে। সাংস্কৃতিক অর্থনীতি এমন এক ক্ষেত্র যেখানে সৃজনশীলতা কর্মকাণ্ড ও বাজার সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড একসথে যুগপৎ কাজ করে। একটি দেশের সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, নাটক, চারুকলা, নৃত্য, লোকজ শিল্প প্রভৃতি শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং এগুলো অর্থনৈতিক সম্পদও বটে। তবে এই সম্পদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা গুন রয়েছে। এর মূল্য শুধু টাকা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। একটি গান যেমন মানুষের স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়, একটি চলচ্চিত্র সমাজে ঘটে যাওয়া নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, একটি শিল্পকর্ম সময়কে ধারণ করে- এই প্রভাবের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন জটিল এবং অনেকাংশে অদৃশ্য। ফলে এই খাতকে বুঝতে হলে শুধু বাজার নয়, মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতিকেও বিবেচনায় নিতে হয়। করতে হবে অনুধাবন। সাংস্কৃতিক অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বহুমাত্রিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ক্ষমতা। একজন গায়ক শুধু গানই তৈরি করেন না, তার সঙ্গে যুক্ত থাকে সংগীত প্রযোজক, বাদ্যযন্ত্রী, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, ভিডিও নির্মাতা, মার্কেটিং টিম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তাদের সহায়ক। অর্থাৎ একটি সাংস্কৃতিক পণ্য অনেকগুলো অর্থনৈতিক চেইন বা শৃঙ্খল তৈরি করে, যা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক অর্থনীতি এক বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র। আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি যেমন- বাউল গান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, নকশিকাঁথা, পটচিত্র, মৃৎশিল্প ইত্যাদি। এসব কেবল ঐতিহ্যের নিদর্শন নয়, এগুলো হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য পরিবার এসব পেশার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে নারীরা হস্তশিল্পের মাধ্যমে ঘরে বসেই আয় করছেন, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে এবং সামাজিক মর্যাদা বাড়াচ্ছে। একই সথে এই শিল্পগুলো আন্তর্জাতিক বাজারেও ধীরে ধীরে পরিচিতি পাচ্ছে, যা রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করছে।

নানা ধরনের উৎসবভিত্তিক অর্থনীতি, এই খাতকে আরও গতিশীল করে। যেমন ১লা বৈশাখ এলে শহর ও গ্রামজুড়ে এক ধরনের অর্থনৈতিক সঞ্চারণ দেখা যায়। নতুন পোশাক, মেলা, খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সব মিলিয়ে একটি মৌসুমি অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কারিগর, শিল্পী এবং ব্যবসায়ীরা এই সময় অতিরিক্ত আয় করেন। সাথে যারা পরিবহনের সাথে জড়িত। শুধু পহেলা বৈশাখ নয়, ঈদ, দুর্গাপূজা, এমনকি গ্রামীণ মেলাগুলোও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালি করে এবং সক্রিয় রাখে। ফলে উৎসব এখানে শুধু সাংস্কৃতিক নয়, একটি অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবেও কাজ করে। বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক অর্থনীতি এখন Creative Economy নামে পরিচিত। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, এই খাত বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। চলছে আর্থিক লেনদেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটি তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এই খাত এখন সীমান্তহীন হয়ে গেছে। ইউটিউব, স্পটিফাই, নেটফ্লিক্স, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সৃজনশীল কাজকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে একজন নির্মাতা এখন স্থানীয় বাজারে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক আয় করতে পারছেন। যদিও কিছু কিছু কাজ আসলে কোনো শিল্পের ধারে কাছেও নেই। কিছু রুচিহীন কর্মকাণ্ড দেখতে পাই, তবে সেগুলো দেখার জন্য, উপভোগ করার জন্য নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ব্যক্তি আছেন যারা উপভোগ করেন। তাদেরও একটা বাজার আছে আর সেই বাজারে হচ্ছে আর্থিক লেনদেন। তবে সাংস্কৃতিক অর্থনীতির বাস্তবতা সবসময় সহজ নয়। এই খাতে অনিশ্চয়তা অনেক বেশি। একটি চলচ্চিত্র, গান বা বই সফল হবে কি না, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা যায় না। এখানে সুইডিশ ব্যান্ড দল ABBA এর বিখ্যাত গান winner-takes-all প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে অল্প কিছু সৃষ্টিকর্ম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু অধিকাংশই হারিয়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি থাকে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফরমাল অর্থনীতিতে যেমন ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তাকে কোনভাবে দূরে ঠেকে রাখা যায় না, এখানেও এই দুটি উপাদান এড়িয়ে চলা যায়না। আমাদের দেশে এই খাতের বিকাশে বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, নীতিগত সহায়তা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। অনেক প্রতিভাবান শিল্পী বা কারিগর আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কাজকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্র্যান্ডিং দুর্বল। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য যে ধরনের কৌশল দরকার, তা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তৃতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় প্রকৃত শিল্পীরা তাদের ন্যায্য আয় থেকে বঞ্চিত হন। মেধাস্বত্ব সুরক্ষার দুর্বলতাও এই খাতের একটি বড় সমস্যা। পাইরেসি বা অননুমোদিত ব্যবহার সাংস্কৃতিক পণ্যের অর্থনৈতিক মূল্য কমিয়ে দেয়। একটি গান বা চলচ্চিত্র সহজেই কপি হয়ে গেলে সৃষ্টিকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

এই সমস্যা সমাধানে শক্তিশালী আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা জরুরি। শিল্পীদের অধিকার সুরক্ষিত হলে তারা আরও উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহিত হবেন। সাংস্কৃতিক পর্যটন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র। দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলো; পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, লালবাগ কেল্লা, সুন্দরবন; শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, এগুলোকে ঘিরে একটি অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব। যদি স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, সংগীত এবং হস্তশিল্পকে পর্যটনের সথে যুক্ত করা যায়, তাহলে এটি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করবে। পূর্বেই বলেছি যে, ডিজিটাল যুগ সাংস্কৃতিক অর্থনীতিকে নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। এখন কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ডিজিটাল আর্ট, অ্যানিমেশন, গেমিং, ফ্রিল্যান্সিং এসব নতুন পেশা হিসেবে বর্তমান সমাজে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণরা এই খাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে আয় করছে। তবে এখানে সফল হতে হলে প্রয়োজন দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক অর্থনীতির গুরুত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃজনশীল শিল্প, মিডিয়া স্টাডিজ এবং সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আধুনিক কোর্স চালু করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। এতে এই খাত আরও সংগঠিত ও পেশাদার হয়ে উঠবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এই খাতকে এগিয়ে নিতে পারে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হলে তারা আরও সফল হতে পারবেন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক পণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং রপ্তানি কৌশল উন্নয়ন করা জরুরি।

আমাদের দেশ ছাড়া সার্ক অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো যেমন ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলে সাংস্কৃতিক অর্থনীতি শুধু শিল্প বা বিনোদনের বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি, পরিচয়, পর্যটন এবং আঞ্চলিক সংযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। সেই সকল দেশের দিকে আলোকপাত করলে আমরা তাদের কৃষ্টি ও কালচার এর দিকে নজর দেব।

প্রথমত, সার্ক অঞ্চলে সাংস্কৃতিক অর্থনীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে। ভারত চলচ্চিত্র, সংগীত এবং টেলিভিশন শিল্পের দ্বারা কোটি মানুষের জীবিকা তৈরি করেছে। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এর দ্বারা ভারত অনেক অনেক মূদ্রা অর্জন করছে। শুধু নিজের দেশেই না, আশে পাশের অনেক দেশ থেকেই সে এই অর্থ সংগ্রহ করছে। নেপাল ও ভুটানে হস্তশিল্প ও লোকসংস্কৃতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় ডিজিটাল কনটেন্ট ও সঙ্গীত শিল্প তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। ফলে এই খাত সরাসরি ও পরোক্ষভাবে শ্রমবাজারকে শক্তিশালী করছে। দ্বিতীয়ত, পর্যটন শিল্পের সথে সাংস্কৃতিক অর্থনীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক উৎসব পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। নেপালের হিমালয় সংস্কৃতি, ভারতের তাজমহল, শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ঐতিহ্য কিংবা বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি- সব মিলিয়ে এই অঞ্চল একটি বড় সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটছে। তৃতীয়ত, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সার্ক অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইউটিউব, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া- এসবের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত, নাটক ও সিনেমা এখন বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে একজন শিল্পী এখন শুধু নিজের দেশের বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও আয় করতে পারছেন। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কপিরাইট সুরক্ষার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত বৈষম্য, এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার অভাব এই খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট দেশগুলো বড় দেশের সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে পিছিয়ে পড়ে। এছাড়া নীতিগত সমন্বয়ের অভাবও একটি বড় সমস্যা। সব মিলিয়ে বলা যায়, সার্ক অঞ্চলে সাংস্কৃতিক অর্থনীতি একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। যদি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায়, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে সমতা আনা যায়, তাহলে এই খাত দক্ষিণ এশিয়াকে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ব্লকে পরিণত করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, সাংস্কৃতিক অর্থনীতি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি প্রয়োজনীয় ও কৌশলগত খাত। একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন অর্থনীতি মানুষের সংস্কৃতি, পরিচয় ও সৃজনশীলতার সথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বাংলাদেশের মতো একটি সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশে এই খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। সঠিক নীতি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অর্থনীতি ভবিষ্যতের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। সংস্কৃতি শুধু অতীতের স্মৃতি নয় এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, কলামিস্ট ও সহযোগী অধ্যাপক

সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত