ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ : জেলা-উপজেলায় পৌঁছাক ডায়ালাইসিস সেবা

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ : জেলা-উপজেলায় পৌঁছাক ডায়ালাইসিস সেবা

কিডনি রোগ এখন বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর হাজার হাজার রোগী কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। অথচ জীবন রক্ষাকারী এই চিকিৎসাসেবা এখনো মূলত রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত ও থাকার ব্যয়ও তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এ বাস্তবতায় দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক এলাকার কিডনি রোগীরা বড় ধরনের সুবিধা পাবেন। ঢাকার ওপরও কমবে চিকিৎসার চাপ।

তবে শুধু ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন করলেই হবে না। প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, আধুনিক যন্ত্রপাতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। এ জন্য পাঁচ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে ডায়ালাইসিস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে নতুন পদ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চিকিৎসার ব্যয়। ডায়ালাইসিস দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য নিয়মিত ডায়ালাইসিসের খরচ বহন করা অত্যন্ত কঠিন। তাই সরকারি কেন্দ্রগুলোতে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণেও জোর দিতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ কিডনি রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়ানো জরুরি। কারণ রোগীকে ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে পরিবার ও রাষ্ট্র— উভয়ের ওপর চাপ কমবে। সরকারের এ উদ্যোগ সফল করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোন জেলায় কখন কেন্দ্র চালু হবে, কতজন জনবল থাকবে এবং দরিদ্র রোগীরা কী সুবিধা পাবেন— এসব তথ্য জনগণের সামনে নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত। রাজধানী থেকে জেলা, জেলা থেকে উপজেলা— স্বাস্থ্যসেবার এই বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। কিডনি রোগীর চিকিৎসা যেন দূরত্ব বা অর্থের কারণে থেমে না যায়, সেটিই হওয়া উচিত এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। ডায়ালাইসিস সেবা পৌঁছাক মানুষের দোরগোড়ায়— এটাই এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত