প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অপরিহার্য শর্ত। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার সরকারি লক্ষ্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ৮৫টি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বাস্তবতা হলো, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রয়োজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক, উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণ, সহজগম্য অবকাঠামো ও শিশুবান্ধব পরিবেশ। এসবের সমন্বয় না হলে স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূর্ণ সুফল বয়ে আনবে না।
প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলে তাদের মেধা ও সম্ভাবনার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবার আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে সন্তানকে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারে না। তাই নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, যাতায়াত সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় থেরাপি ও পুনর্বাসনসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও সময়োপযোগী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানের পরিচর্যার কারণে স্বাভাবিক কর্মজীবনে যুক্ত হতে পারেন না। তাদের জন্য ঘরে বসে বা উপযোগী পরিবেশে আয় করার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি ওঠার পর মন্ত্রী তা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের প্রকৃত প্রয়োজন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণও শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক উদ্যোগ; তবে তা যেন নিয়মিত ও পরিকল্পিত সহায়তার বিকল্প না হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সমাজেরও সম্মিলিত কর্তব্য। স্কুল প্রতিষ্ঠার ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, পর্যাপ্ত বরাদ্দ, নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা শিক্ষা ও কর্মজীবনে নিজেদের সামর্থ্য বিকাশের সুযোগ পাবে, আর বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পাবে।