প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২৮১ জন। এ সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একটি পরিবারে অপূরণীয় ক্ষতি। ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিল্ড হাসপাতাল চালুর চিন্তা, রোগীর চাপ কমাতে কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ— এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতেও পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে হবে।
তবে শুধু হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। রোগী বাড়তে থাকলে হাসপাতালের সক্ষমতা যতই বাড়ানো হোক, একসময় তা চাপের মুখে পড়বে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর।
ঢাকা ও অন্যান্য শহরে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা কিংবা ওষুধ ছিটানো নয়, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত বাড়ি, ছাদ, ড্রেন, ডাবের খোসা, ফুলের টবসহ যেখানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় দরকার। পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপের তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি আতঙ্ক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হলো রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা। সমন্বিত, নিয়মিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুর এ দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলা করতে।