ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মামলাজট কমাতে চাই কার্যকর ব্যবস্থাপনা

মামলাজট কমাতে চাই কার্যকর ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশ রেলওয়ের নামে দেশের বিভিন্ন আদালতে চলমান মামলাগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের খবরটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা কমানো যেমন জরুরি, তেমনি এসব মামলা সঠিকভাবে পরিচালনা করাও প্রশাসনিক দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে শুধু বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় না, রাষ্ট্রীয় অর্থ, সময় ও জনবলও ব্যয় হয়।

রেলওয়ের আইন শাখার সাম্প্রতিক সভায় ১৫ দিনের মধ্যে সব বিচারাধীন মামলার পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ-সংক্রান্ত মামলার আলাদা তালিকা, মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং মামলা ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও তথ্যের ঘাটতি দূর করতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানের মামলার সঠিক সংখ্যা, অবস্থান ও পরবর্তী করণীয় জানা না থাকলে সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আইন কর্মকর্তার বক্তব্য— কিছু মামলা এন্ট্রি হয়নি, আবার কোনো কোনো মামলা নিষ্পত্তি হলেও তা নথিতে প্রতিফলিত হয়নি— বিষয়টি উদ্বেগজনক। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মামলা ব্যবস্থাপনায় এমন তথ্যগত অসংগতি থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। তাই শুধু তালিকা তৈরি নয়, ভবিষ্যতে মামলার তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ ও আদালত অবমাননার মামলায় বিশেষ নজরদারি, প্রয়োজন অনুযায়ী অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ এবং মামলার নথি ও পেপারবুক যথাযথভাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও সময়োপযোগী। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ আইনজীবীদের পরিবর্তন এবং আইনজীবীদের বকেয়া বিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

জরুরি মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ বাজেট এবং আইন শাখার তাৎক্ষণিক খরচ মেটাতে অগ্রিম অর্থের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্তও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আদালতের কোনো জরুরি আদেশের পর অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হলে তার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়।

তবে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণই যথেষ্ট নয়; এর বাস্তবায়নই মূল কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরি, নিয়মিত মামলা পর্যালোচনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এতে প্রতিটি মামলার নম্বর, আদালত, বর্তমান অবস্থা, পরবর্তী তারিখ, আইনজীবী ও করণীয় এক জায়গায় পাওয়া যাবে।

রেলওয়ের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মামলা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলে মামলাজট কমানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও স্বার্থ সুরক্ষায়ও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন প্রয়োজন সিদ্ধান্ত নয়, সিদ্ধান্তের দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত