প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবদান অপরিসীম। তবে কৃষির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না; কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিবেচনায় সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ২০৮টি উপজেলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে পরিবার ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এরইমধ্যে ৬ হাজার ৮৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক দক্ষতা, বাজারসংযোগ ও ইনকিউবেশন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও আশাব্যঞ্জক।
কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে কৃষির প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আসবে। আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো ও সুগন্ধি চালের মতো পণ্যকে কেন্দ্র করে মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলা গেলে কৃষক থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকারী, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ী— সব পক্ষই উপকৃত হতে পারেন। কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা এবং দেশীয় পণ্যের নতুন বাজার তৈরিতেও এর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে গাজীপুরের তরুণ উদ্যোক্তা তামিমা আক্তার ন্যান্সির উদ্যোগ অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি জ্যাম, জেলি, আচারসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন। তার প্রতিষ্ঠানে চারজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
তবে উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রমকে সফল করতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। সহজ শর্তে ঋণ, মানসম্মত যন্ত্রপাতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি কেনায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকির প্রস্তাব রয়েছে। এ সহায়তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় মান ও সনদ অর্জনেও সহযোগিতা দিতে হবে।
কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির এ উদ্যোগ সফল হলে কৃষি হবে আরও আধুনিক, বহুমুখী ও লাভজনক। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়বে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন ও রপ্তানির সম্ভাবনা। তাই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন, উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ উদ্যোগ দেশের কৃষি অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাক— এটাই প্রত্যাশা।