ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিদেশি বিনিয়োগে বাড়ুক দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা

বিদেশি বিনিয়োগে বাড়ুক দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন বিনিয়োগ শিল্পায়নের গতি বাড়ায়, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ দৃঢ় করে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটির দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক।

ফুটওয়্যার এক্সেসরিজ, ব্যাগ ও লাগেজের উপকরণ এবং কাগজ ও মুদ্রণসামগ্রী উৎপাদনে ৭ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কারখানাটিতে প্রায় ২০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উৎপাদন শুরু হলে জুতা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, ফোম, কাটিং বোর্ড ও অন্যান্য সামগ্রী উৎপাদিত হবে। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ভারত ও কম্বোডিয়ার বাজারেও এসব পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এ বিনিয়োগ দেশের শিল্প খাতের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি রপ্তানি সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে। উদ্যোগটির আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, একই প্রতিষ্ঠানের প্রথম কারখানায় পণ্যের চাহিদা ও নতুন কার্যাদেশ বাড়ায় দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীর কাছে বাংলাদেশে উৎপাদন সম্প্রসারণের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে হলে এ ধরনের ইতিবাচক পরিবেশ আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

মিরসরাইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতিও আশাব্যঞ্জক। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেপজা ইজেড-১-এ ১৪টি প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে ছিল এবং আরও ৩৩টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল। অঞ্চলটিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৯৮ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি হয়েছিল ৬৮ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৪ হাজার ৪২৮ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিসংখ্যান শিল্পাঞ্চলটির সম্ভাবনা তুলে ধরে। তবে বিনিয়োগের সাফল্য শুধু কারখানা স্থাপন বা কর্মসংস্থানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা কতটা বাড়ছে, স্থানীয় উদ্যোক্তারা কতটা উপকৃত হচ্ছেন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কী ভূমিকা রাখছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় সরবরাহকারীদের সংযোগ বাড়ানো, প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তর এবং দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, দ্রুত প্রশাসনিক সেবা এবং স্থিতিশীল নীতিপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হতে পারে। তবে এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মিরসরাইয়ের নতুন বিনিয়োগ সেই বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখুক— এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত