
দেশের সীমান্তবর্তী জেলা ও নকশিকাঁথার জনপদ জামালপুরে ধারণ করা হলো জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'। বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও লেক পরিবেষ্টিত লাউচাপড়া বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে এবারের মূল মঞ্চ নির্মিত হয়েছিল। মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা অঞ্চালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবার রাতের পরিবর্তে দিনের আলোতে শুরু হয় অনুষ্ঠান।
ফাগুন অডিও ভিশনের ব্যানারে হানিফ সংকেতের রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় নির্মিত 'ইত্যাদি'র বিশেষ পর্বটি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত হবে।
এবারের পর্বে সংগীতানুষ্ঠানে বৈচিত্র্য রাখতে দুটি ভিন্ন ধরনের গান রাখা হয়েছে। একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। এ ছাড়া বরাবরের মতো এবারও থাকছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা, তাদের জন্মস্থান জামালপুর। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় এর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের নৃত্য পরিচালনায় স্থানীয় বাঙালি ও গারো নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা পুরো মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে। 'ইত্যাদি'র ঐতিহ্য অনুযায়ী দর্শকপর্বের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চারজন দর্শককে নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানে জামালপুরকে ঘিরে বেশ কিছু প্রতিবেদন স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রতীক 'নকশিকাঁথা', ঐতিহ্যবাহী খাবার 'মিল্লি বা পিঠালি', ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ এবং দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম 'তুলসীপুর ঘোড়া হাট'-এর ওপর বিশেষ চিত্রায়ণ। পাশাপাশি নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার ও বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদনও রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বাবলম্বী হওয়া ফেরদৌস হাসান বাপ্পী ও ওসনাই খাতুন দম্পতির অদম্য জীবনসংগ্রামের গল্প দর্শকদের অনুপ্রাণিত করবে। বিদেশি পর্বে থাকছে চীনের নয়নাভিরাম 'সুঝৌ' সিটির ওপর বিশেষ প্রতিবেদন।