
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে গণভোট আয়োজনের কোনো বিধান নেই এবং নির্বাচন কমিশনের কোনো গণভোট পরিচালনার ক্ষমতা নেই।’
রিটে হাইকোর্টের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে- কেন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্ট আগামী সপ্তাহে এই রিটের ওপর শুনানি করতে পারেন বলে জানান আতাউল মজিদ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ফলাফল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নিত পরিবর্তনের প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন পায়। এ ভোটে মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার, আর ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
গণভোটের ফল স্থগিতের রিট চ্যালেঞ্জ করে আদালতে লড়ার ঘোষণা শিশির মনিরের : গণভোটের ফলের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ রিট মামলা আদালতেই মোকাবিলা করা হবে। তিনি বলেন, ‘গণভোটের ফলাফলের কার্যকারিতার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা রিট মামলা আমরা আদালতে মোকাবিলা করব ইনশাআল্লাহ’। এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীব-এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।