ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

এই সংসদ জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে

বললেন ডা. শফিকুর রহমান
এই সংসদ জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে

বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক কোনো সংসদ নয় বরং ২৪-এর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশেষ সংসদ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর যারা নির্যাতিত হয়েছেন এবং জুলাই বিপ্লবে যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ এই সংসদ গঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ৪৭, ৫২, ৭১, ৭৫ এবং ৯০-এর শহীদদের। বিশেষ করে গত সাড়ে ১৫ বছর যারা আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, নির্যাতিত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং ২৪-এর জুলাইয়ে যারা অকাতরে জীবন দিয়ে আমাদের এই সংসদে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি চিরঋণী।’ তিনি শহীদদের জান্নাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করেন।

স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময় কার্যকর ছিল। বেশিরভাগ সময় দেশ ফ্যাসিবাদের কবলে ছিল এবং সংসদ ছিল কেবলই একটি ‘ডামি’ সংসদ। যারা অতীতে এই চেয়ারে বসেছেন, তারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের ওপর সুবিচার করতে পারেননি। তিনি আরও যোগ করেন, আপনি একটি দল থেকে নির্বাচিত হয়ে এলেও স্পিকার হওয়ার পর দলীয় পদ ত্যাগ করেছেন। তাই আমরা আশা করি, আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না। আপনার কাছ থেকে আমরা ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।

সংসদকে কোনো ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্র না বানানোর অনুরোধ জানিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি জনগণের কল্যাণ নিয়ে আলোচনার চেয়ে মানুষের চরিত্র হননে বেশি সময় ব্যয় করা হয়েছে। আমি বিনীত অনুরোধ করব, এই সংসদ যেন কারো অপমানের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। এটি যেন কেবল জনকল্যাণে পরিচালিত হয়।

জুলাই বিপ্লবের মূল স্লোগান ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে সংসদ সবচেয়ে প্রধান। সংসদ যখন সঠিকভাবে চলবে, বাকি দুটি অঙ্গও (নির্বাহী ও বিচার বিভাগ) সঠিকভাবে কাজ করবে। আপনার মাধ্যমে সমাজ থেকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব অসংগতি ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এটাই ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।

বক্তব্যের শেষে তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান এবং সংসদের সব গঠনমূলক কাজে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

সংসদ যেন কারও চরিত্রহননের কেন্দ্র পরিণত না হয় : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়, বরং এটি জনকল্যাণ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার স্থান হওয়া উচিত। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সরকারবিরোধী ভেদাভেদ নয়, স্পিকারের কাছে আমরা সবার জন্য সুবিচার প্রত্যাশা করি।

জাতীয় সংসদে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ সাধারণ কোনো সংসদ নয়, বরং এটি অনেক ত্যাগ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত একটি সংসদ। বক্তব্যের শুরুতে তিনি দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও সময়ের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, আহত বা পঙ্গু হয়েছেন তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত