ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কোথাও তীব্র যানজট কোথাও স্বস্তির যাত্রা

* ঈদযাত্রায় ভোগান্তি, গাজীপুরে ২১ কিলোমিটার যানজট * চন্দ্রায় ১০-১২ কিলোমিটার যানজট, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ধীরগতি * ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ কম, কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় * কারখানা ছুটির পর গাজীপুরে মহাসড়কে মানুষের ঢল, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ * পদ্মা সেতুতে গাড়ির চাপ, তবে রাস্তায় নেই যানজট
কোথাও তীব্র যানজট কোথাও স্বস্তির যাত্রা

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে দেশের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও তীব্র যানজটে নাকাল যাত্রীরা, আবার কোথাও স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর খবর মিলেছে।

রাজধানী থেকে বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলোতে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে গুলিস্তান, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড়ের পাশাপাশি যানবাহনে ধীরগতি দেখা দেয়। অতিরিক্ত যাত্রী, ধীরগতির যানবাহন এবং বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংস্কার কাজের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বিশেষ করে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়, ফলে ঈদযাত্রা হয়ে ওঠে ভোগান্তিময়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। অন্যদিকে, কিছু বিকল্প সড়ক ও কম ব্যস্ত রুটে পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক স্বাভাবিক। এসব পথে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্বিকভাবে, এবারের ঈদযাত্রায় একদিকে তীব্র যানজটের ভোগান্তি, অন্যদিকে কিছু রুটে স্বস্তির যাত্রা- দুই বিপরীত চিত্রই চোখে পড়ছে।

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি, গাজীপুরে ২১ কিলোমিটার যানজট : ঈদ উদযাপন করতে আপন নীড়ে ছুটছে কর্মজীবী মানুষ। এর মধ্যেই বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। যানবাহনের তীব্র চাপ ও ঘরমুখী মানুষের ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রী। বুধবার বিকেল গড়াতেই শিল্পঅধ্যুষিত গাজীপুরের কয়েকশত শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ছুটি পেয়েই কর্মজীবী এসব মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সড়কে নামে হাজার হাজার যাত্রী। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীর চাপের সঙ্গে সঙ্গে ছোট বড় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এতে চন্দ্রা টার্মিনালে যানবাহন প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে এ সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে জেলার কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ৬ কিলোমিটার সড়কে নজিরবিহীন যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন।

দূরপাল্লার বাসে থাকা যাত্রী আল মাহাদী বলেন, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বের হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠেছি। এক ঘণ্টায় গাড়ি এক কিলোমিটার এগিয়েছে। ধীরে ধীরে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬ ঘণ্টার সড়ক ১২ ঘণ্টায় শেষ হবে কিনা তাই ভাবছি। সোহান ট্রাভেলসের চালক মাহতাবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে যানজট বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে যানজট ৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে। এতে পরিবহন ও যাত্রী সকলের কষ্ট হবে।

চন্দ্রা টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িতে উঠার অপেক্ষায় আছি। যানজটের কারণে গাড়িই আসছে না। এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে ফেলেছে পরিবহন মালিকরা। এখানে প্রশাসনেরও কোনো হস্তক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল দুপুরের পর তা আরও কয়েক গুণ বেড়েছে।

ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে দায়িত্বে থাকা ইনস্পেক্টর তরিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের পর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ কম, কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় : ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে নির্ধারিত সময়ে রাজধানী থেকে গাড়ি ছেড়ে না আসায় কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, কাঁচপুর ও সোনারগা অংশ সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সড়কে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক ও দ্রুতগতির। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কোনো যানজট দেখা যায়নি।

হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য, ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় অনেক যাত্রী আগেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সড়ক ভালো, পুলিশি তৎপরতা আছে। এ কারণে মহাসড়কে গাড়ির চাপ কম। মেঘনা টোল প্লাজায় ১২টি বুথে গাড়ি থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। চালকদের নির্দিষ্ট লেনে চলাচলে উৎসাহিত করতে মাইকিং করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকাও যানজট কম থাকার একটি বড় কারণ।

মেঘনা টোল প্লাজার কর্মকর্তা আলীফ মাহমুদ বলেন, এবারের ঈদে গাড়ির চাপ কম। এ ছাড়া মালবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কে চাপ কম। এ কারণে টোল প্লাজা দিয়ে যানজট ছাড়াই গাড়ি চলাচল করতে পারছে। টোল প্লাজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মনির হোসেন বেলা সোয়া ১১টার দিকে বলেন, সকালে গাড়ির চাপ থাকলেও মহাসড়ক এখন ফাঁকা। মহাসড়কে যানজট নেই।

বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী থেকে বের হয়ে আসতে তাদের যানজটে পড়তে হয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অংশে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত যানজট নেই। মহাসড়ক ফাঁকা, দ্রুত গতিতে গাড়ি চলছে। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা বলেন, ঈদে লম্বা ছুটি হওয়ায় যাত্রীরা অনেকে আগেই চলে গেছেন। আর যারা আছেন, তারাও ধীরে ধীরে বাড়ি যাচ্ছেন। যানজট না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়কের অবস্থা ভালো এবং হাইওয়েতে পুলিশি তৎপরতা থাকায় যানজট নেই। তবে গার্মেন্টস ছুটি শুরু হলে চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বড় রকমের যানজট লাগার আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।

কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় পরিবহন কাউন্টারগুলোতে গাড়ির জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি না আসায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেকে।

ফোম কারখানায় কাজ করেন রুবেল মিয়া। ঈদের ছুটিতে নোয়াখালীর চৌমুহনী যাওয়ার উদ্দেশে গাড়ি জন্য সাইনবোর্ডে স্ত্রীসহ অপেক্ষা করছিলেন তিনি। রুবেল মিয়া বলেন, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় তার গাড়ি ছাড়ার কথা ছিল। দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও গাড়ি আসেনি। ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা করে নিয়েছে। অন্য সময় ৫০০ টাকা নেয় বলে জানান তিনি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সালাউদ্দিন ঈদের ছুটিতে বোন, দুই ভাগনি এবং আরও দুই স্বজনসহ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী যাচ্ছেন। নীলাচল পরিবহনের টিকিট কেটেছেন তারা। তবে গাড়ি তখনো এসে পৌঁছায়নি।

সাইনবোর্ডে হিমাচল পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আবদুল জলিল বলেন, ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে আসতে দেরি হচ্ছে। সকাল থেকে তাদের ৬ থেকে ৭টি গাড়ি কাউন্টার থেকে ছেড়ে গেছে। জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে গাড়িগুলোর দেরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ কারণে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

কারখানা ছুটির পর গাজীপুরে মহাসড়কে মানুষের ঢল, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার দুপুরের পর থেকেই যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এতে বিভিন্ন সড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে, আবার কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে দূরপাল্লার পরিবহনগুলো। কারখানা ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে বুধবার প্রায় দুই হাজার শিল্পকারখানা ছুটি হয়েছে। অধিকাংশ কারখানায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ শেষে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি পাওয়ামাত্রই শ্রমিকেরা একযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ফলে দুপুরের পর থেকেই মহাসড়কে যাত্রীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। যাত্রী ও পরিবহন- সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ বাড়তি চাপ সামাল দিতে না পেরে পরিবহনসংকট তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে অনেক পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই চাপ আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আসমা আক্তার বলেন, ‘গাড়ি পাওয়া খুব কষ্ট। রংপুর যেতে ভাড়া চাচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। অনেকেই যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের জন্য এত টাকা দেওয়া কঠিন। আসা- যাওয়াতেই বোনাসের টাকা শেষ হয়ে যায়।’ আরেক যাত্রী করিম মিয়া বলেন, ‘চন্দ্রা থেকে সিরাজগঞ্জের ভাড়া সাধারণত ৩০০ টাকা। কিন্তু আজ ৮০০ টাকার নিচে কোনো গাড়ি যাচ্ছে না। গাড়ির মানও ভালো নয়। এটা যাত্রীদের জিম্মি করে টাকা নেওয়ার মতো।’

কোনাবাড়ী- নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি আমরা নজরদারিতে রেখেছি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পদ্মা সেতুতে গাড়ির চাপ, তবে রাস্তায় নেই যানজট : ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পদ্মা সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোনো দীর্ঘস্থায়ী যানজট নেই। ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে সেতু পার হয়ে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতু এলাকায় গাড়ির সংকট রয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী বিকল্প হিসেবে খোলা ট্রাকে করে যাত্রা করছেন। বুধবার সকালে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে থেকে যাত্রীদের ২০০ টাকা ভাড়ায় ট্রাকে করে বরিশালের উদ্দেশে যেতে দেখা গেছে।

ভোর থেকেই সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। টোল প্লাজায় সাময়িক জটলা তৈরি হলেও তা দ্রুতই কেটে যাচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী (টোল) মো. নাবিল হোসেন জানান, যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও স্থায়ী যানজট নেই। গত মঙ্গলবারের মতো বুধবারও চাপ অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে ৩৮ হাজার ৫৫৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা। ঈদের আগে যাত্রীচাপ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত