ঢাকা রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইরানের পক্ষে যুদ্ধে হুথিরা উন্নত ড্রোন পাঠাচ্ছে মস্কো

বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধ
ইরানের পক্ষে যুদ্ধে হুথিরা উন্নত ড্রোন পাঠাচ্ছে মস্কো

দিন যত গড়াচ্ছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে এরমধ্যে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এর পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে পরিচিত রাশিয়াও ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, রাশিয়া ইরানকে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন সরবরাহ করছে, যা যুদ্ধের কৌশল ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ইরানে উন্নত সংস্করণের শাহেদ ‘ড্রোন পাঠাচ্ছে’ রাশিয়া : ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মূলত ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক শাহেদ ড্রোনই ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করে আসছিল রাশিয়া। তবে এ ড্রোনে এখন জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস যুক্ত করে আরও শক্তিশালী করেছে মস্কো। সেই উন্নত ড্রোনই এখন তেহরানে পাঠানো হচ্ছে। আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার নামে ট্রাকে এই ড্রোন পরিবহন করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। তবে চালানটি কতো বড় এবং এটি একবারে সরবরাহ করা নাকি ধারাবাহিকভাবে করা সরবরাহের অংশ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ খবর ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ ইরানকে যা-ই সরবরাহ করুক না কেন, তা আমাদের অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার উন্নত এই ড্রোন ইরানের হাতে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।

তেল আবিবের ১১ স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১, আহত ৪ : ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের কেন্দ্র ও দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে তেল আবিবি ও এর আশপাশের ১১টি স্থানে হামলায় চালিয়েছে ইরান। এতে অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগান ডেভিড অ্যাডাম জানায়, বৃহত্তর তেল আবিব অঞ্চল ঘোষ ড্যান-এ একজন নিহত হয়েছেন। ইরানের বহুমুখী ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও শার্পনেল তেল আবিব ও আশপাশের একাধিক স্থানে আঘাত হানে। রামাত গান, গাভিতায়েম এবং তেল আবিবে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় এলাকায় দুইজন আহত হন, আর দক্ষিণাঞ্চলের বেয়ারশেবাতে গুরুতর আহত দুইজন সরোকা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ১২ জানায়, তেল আবিবের আশপাশে অন্তত ১০টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয় এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রথমে দক্ষিণাঞ্চল, পরে কেন্দ্রীয় এলাকায় হামলা চালানো হয়। হামলার সময় দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ অঞ্চলসহ তেল আবিব, পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরে সাইরেন বেজে ওঠে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ জন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১১৪০ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোইটিসের কর্মকর্তা মারিয়া মার্টিনেজ জানান, ইরানে যৌথ বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এরইমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে আঘাত হানছে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজার ও বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলছে।

সৌদিতে বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত : সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে কয়েকটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ১২ জন বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে বলে নিশ্চিত করেছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।

একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের আকাশসীমায় আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আকাশে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ফল। অন্যদিকে বাহরাইনেও ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, তাই হামলা চালানোর আগে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ জন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১১৪০ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোইটিসের কর্মকর্তা মারিয়া মার্টিনেজ জানান, ইরানে যৌথ বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

কুয়েত বিমানবন্দরে কয়েক দফায় ড্রোন হামলা, রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে গতকাল শনিবার একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটি ‘বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার শিকার’ হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ বিমানবন্দরটি বেশ কয়েকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এসব হামলার জন্য কুয়েত ইরানকে দায়ী করেছে। এদিকে হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

দুবাইয়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার দাবি ইরানের : দুবাইয়ের দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন সেখানে পাঁচ শতাধিক মার্কিন সেনা লুকিয়ে ছিল। এতে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তাসনিম নিউজে প্রকাশিত মন্তব্যে তিনি বলেন, ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হওয়ার কারণে মার্কিন বাহিনী ঘাঁটির বাইরে পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক নেতৃত্বকে বুঝতে হবে এই অঞ্চল মার্কিন সেনাদের কবরস্থানে পরিণত হবে এবং তাদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এদিকে ড্রোন হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা। গতকাল শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ছোট এই উপসাগরীয় দেশটিতে চালানো ওই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে কুয়েতের সরকারি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র। তবে রাডার ব্যবস্থাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

ওমান উপকূলে মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি ইরানের : ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ওমানের সালালাহ বন্দরের থেকে যথেষ্ট দূরত্বে একটি মার্কিন সামরিক সহায়ক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাসনিম নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা আগেই ঘোষণা করেছি, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান সম্মান করে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে থাই তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, থাই তেল ট্যাংকারগুলো নিরাপদে হরমুজ প্রণালীতে অতিক্রমের অনুমতি দিতে একটি চুক্তি হয়েছে।

তিনি জানান, এই সমঝোতার ফলে জ্বালানি আমদানি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমবে এবং মার্চের শুরুতে যে ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল, তা পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে ইরান প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অনেকটাই সীমিত করে দিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে।

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা : এবার ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো। খবর বিবিসির।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেছে, আইডিএফ ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এই হুমকি প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর এক মুখপাত্রের ঘোষণার পরই এই হামলার ঘটনা ঘটলো। এর আগে হুথিরা সতর্ক করেছিল যে, ইরানে হামলা অব্যাহত থাকলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রবেশ করবে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর (ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর হুথি অংশ) মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, অন্যান্য যেকোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিলে, লোহিত সাগর ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এবং যেকোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের শত্রুতামূলক অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করা হলে, ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলে ‘সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য আমাদের আঙুল ট্রিগারে রাখা রয়েছে’। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান, ফিলিস্তিন, ইরাক ও লেবাননের বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরায়েলি শত্রুদের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব দেবে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর নজিরবিহীন হামলা : লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১০০টিরও বেশি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। গত শুক্রবার হিজবুল্লাহর মিডিয়া শাখার এক বিবৃতিতে, ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এই হামলার সংখ্যা ১০৩-এ পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং একটি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। জানা গেছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক রকেট হামলা চালানো হয়েছে যার ফলে আপার গ্যালিলি অঞ্চলের মিতোলা বসতিতে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর লক্ষ্যভিত্তিক হামলা জোরদার করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, অ্যাক্রি শহরের পূর্বে এলিয়াকিম ও টিফন ঘাঁটি এবং হাইফা শহরের জেভ এয়ার ডিফেন্স ঘাঁটিতে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া আরও একটি ইসরায়েলি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করার কথাও জানানো হয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ লেবাননের ম্হাইসিবাত ও কান্তারা উচ্চভূমির মধ্যবর্তী স্থানে আরেকটি মেরকাভা ট্যাংকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। একইসঙ্গে নাকোরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে কাছাকাছি দূরত্বে সরাসরি সংঘর্ষ এবং ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে উত্তরের সীমান্তে চাপ বাড়তে থাকায় ইসরায়েলি বাহিনী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। রকেট হামলার অংশ হিসেবে প্রথমে অন্তত ৩০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয় যা গ্যালিলি ও হাইফা উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইফা বে থেকে জারিয়েত এবং কারমেইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম এই হামলা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে তীব্র আক্রমণগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে তাদের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তিনি সপ্তম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৭৭তম ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। ক্রমবর্ধমান এই হামলা ও পাল্টা সংঘর্ষ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লেবানন সীমান্তে সংঘাত আরও বিস্তৃত ও তীব্র আকার ধারণ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ জন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১১৪০ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

লেবাননে ক্ষেপণাস্ত্র-রকেট হামলায় ৯ ইসরায়েলি সেনা আহত : দক্ষিণ লেবাননে পৃথক দুটি হামলায় ইসরায়েলের ৯ জন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আল-জাজিরার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষের সময় একটি ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরেকজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গতকাল শনিবার ভোররাতে দক্ষিণ লেবাননে অভিযানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হলে আরও সাতজন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং বাকি ছয়জন মাঝারি ধরনের আহত বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে লেবাননের ভেতরে আরও অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু এলাকায় তারা সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার (৪ দশমিক ৩ মাইল) পর্যন্ত ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ইসরায়েলি বাহিনী হামলার নির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ না করলেও হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের তাইবেহ শহরে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। যা সীমান্ত থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, ইরানে আরও ৩৫৫৪ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাকি : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি এবং ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা বাকি আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো স্থলসেনা ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে এবং যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে। খবর সিএনএন-এর। এদিকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে আশাবাদী এবং ১৫-দফা চুক্তির একটি উত্তর ‘প্রত্যাশা’ করছে তারা। গত কয়েক ঘণ্টায় তেহরানে দফায় দফায় হামলার শব্দ শোনা গেছে এবং ইরান জানিয়েছে যে, চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা মধ্য ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার প্ল্যান্টেও হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তার দেশ এর জন্য কঠোর মূল্য আদায় করবে। বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ নতুন করে হামলা প্রতিহত করার খবর জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।

চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে আশাবাদী এবং ১৫-দফা চুক্তির একটি উত্তর ‘প্রত্যাশা’ করছে তারা। খবর বিবিসির। গত কয়েক ঘণ্টায় তেহরানে দফায় দফায় হামলার শব্দ শোনা গেছে এবং ইরান জানিয়েছে যে, চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা মধ্য ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার প্ল্যান্টেও হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তার দেশ এর জন্য কঠোর মূল্য আদায় করবে। বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ নতুন করে হামলা প্রতিহত করার খবর জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। হামলায় কয়েকটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র : যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং সাঁজোয়া যানের সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই এই সম্ভাব্য সৈন্য মোতায়েন হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অতিরিক্ত পাঁচ হাজার মেরিন এবং দুই হাজার প্যারাট্রুপার মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভাব্য স্থল আক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি সূত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে জানিয়েছে, এই বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নাগালের মধ্যে মোতায়েন করা হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে, তিনি মার্কিন মিত্রদের সাহায্য নিয়ে বা সাহায্য ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি আলোচনা চলমান থাকায় তিনি এই সৈন্য স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তার মতে, এই আলোচনা ?‘খুব ভালোভাবে’ চলছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি এবং ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা বাকি আছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো স্থলসেনা ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে এবং যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে আশাবাদী এবং ১৫-দফা চুক্তির একটি উত্তর ‘প্রত্যাশা’ করছে তারা। গত কয়েক ঘণ্টায় তেহরানে দফায় দফায় হামলার শব্দ শোনা গেছে এবং ইরান জানিয়েছে যে, চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা মধ্য ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার প্ল্যান্টেও হামলা চালিয়েছে।

তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল : ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। গতকাল শনিবার ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মার্কিন-ইসরায়েল হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি হামলার শিকার হয়েছে। তবে ওই হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এর আগে ঘোষণা করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে তারা তেহরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এর আগে গত ২৩ মার্চ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক সাঈদ শেমকাদরি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিজ বাড়িতেই নিহত হন। প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এক হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানের প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

শান্তি রক্ষায় শাহবাজের উদ্যোগের প্রশংসা করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট : যুদ্ধের দামামা থামাতে ও আলোচনার পথ সুগম করতে ‘আস্থা তৈরি’র ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী এক ফোনালাপে তিনি এ জোর দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) জানিয়েছে, ইরানের ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাজ শরিফের ‘আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেছেন পেজেশকিয়ান।

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি।’ শান্তি রক্ষায় পাকিস্তানের সহযোগিতামূলক ভূমিকার জন্য তিনি শাহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান তার গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। এর আগে ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান ও ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত