
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট প্রকোপ আকারে ধারণ করেছে। তেলের বাজারে বাংলাদেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বহু ফিলিং স্টেশনে সাময়িক বন্ধ রাখছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সংযতভাবে জ্বালানি সংগ্রহের বার্তা দেওয়া হলেও ক্রেতারা মানছে না। জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
৯ জেলায় জ্বালানি তেলের ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন : বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোসহ সর্বমোট ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি। এছাড়াও, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা, নৌ-টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।
দেশের সব পেট্রল পাম্পের জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত : দেশের সব পেট্রল পাম্পের জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘দেশের সব পেট্রল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ব্যতীত জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন।’ এছাড়া ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ/বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন বলেও জানানো হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি পেট্রল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগপূর্বক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে তথ্য প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর বা সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার : জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি জোরদার করতে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার। একইসঙ্গে অবৈধ মজুতদারি ও অনিয়ম ঠেকাতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকাতে এই বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিজিলেন্স টিমগুলো মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি চালাবে এবং অনিয়ম পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত মুনাফা বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর মতো কর্মকাণ্ডের তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার : জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি জোরদার করতে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার। একইসঙ্গে অবৈধ মজুতদারি ও অনিয়ম ঠেকাতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকাতে এই বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিজিলেন্স টিমগুলো মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি চালাবে এবং অনিয়ম পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত মুনাফা বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর মতো কর্মকাণ্ডের তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে।
দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় : দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় না করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। গতকাল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজার হতে প্রয়োজনীয় তেল ক্রয় করছে। ফলে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
সতর্ক করে আরও বলা হয়েছে, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এ ধরনের জ্বালানি তেল ব্যক্তিগতভাবে মজুত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যারা অতিরিক্ত লাভের আশায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ‘না’ বলার আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে দেশের প্রতিটি জেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায়নি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধেকে নেমেছে দূরপাল্লার বাস চলাচল : জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদ করতে যাওয়া যাত্রীরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বাস না থাকায় গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেকেই পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে ঈদ করতে যাওয়া মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।
এদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, বাস কম থাকায় ভাড়া বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে যানবাহন না পাওয়ায় সময় ও অর্থ- দুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আরিফুর রেজা নামের এক যাত্রী বলেন, গতকাল সকাল ৯টার ঢাকাগামী হানিফ ট্রাভেলসের টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু তেল না থাকায় বাস নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর, অর্থাৎ বেলা ১১টায় ছাড়ে। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আতিকুর রহমান স্বজন নামের আরও এক যাত্রী বলেন, গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামগামী একটি বাসের টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু তেলের অভাবে বাসটি নির্ধারিত সময়ে ছাড়েনি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বেশিরভাগ পরিবহনই ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রতিদিনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বাস চলাচল করছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজান রাজন জানান, জ্বালানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অবৈধ মজুত তৈরি না হয় এবং সাধারণ মানুষ সহজে জ্বালানি পেতে পারে।
জামালপুরে তেল সংকটে সড়ক অবরোধ, জরিমানার পর বিক্রি শুরু : জামালপুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালকরা জামালপুর-টাঙ্গাইল সড়ক অবরোধ করেন। পরে জেলা প্রশাসন এসে জ্বালানি ডিলার পয়েন্টের মালিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে মজুত থাকা ২৮০০ লিটার তেল বিক্রির ব্যবস্থা করে দেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে শহরের পিটিআই মোড়ে জুই এন্টারপ্রাইজ তেলের ডিলার পয়েন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তেল মজুত রাখার কারণে সেই প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শতাধিক বাইকার। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দোকান বন্ধ থাকায় তেল সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাইকাররা সড়কে নেমে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকে। এ অবস্থায় সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজট ও ভোগান্তি। খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সে সময় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউিটভ ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ সেই দোকানে পরিদর্শনে গেলে ২৮০০ লিটার পরিমাণ তেল পান এবং তা দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ বলেন, আমারা সেই দোকানে পরিদর্শনে গেলে কিছু পরিমাণ তেল পায় এবং তা দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তেল থাকার পরও বিক্রি না করার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। দোকান তল্লাশি করে কিছু তেল পাওয়া গেছে। গ্রাহক বেশি থাকায় দোকান মালিক আতঙ্কে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন। বর্তমানে মজুত থাকা তেল গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না তেল : গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে যা জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ। গত শুক্রবার দিনভর এবং রাতেও শহরের কুয়াডাঙ্গা, পুলিশ লাইন মোড়, মান্দারতলা, বেদগ্রামসহ বিভিন্ন পাম্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেলের জন্য শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। চালকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো গোপালগঞ্জেও জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু তেল পাইনি। তেল না পেলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে, পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
একজন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, আমাদের আয় পুরোপুরি তেলের ওপর নির্ভরশীল। কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না, ফলে গাড়ি চালাতে পারছি না। অন্যদিকে এক পণ্যবাহী ট্রাক চালক বলেন, খুলনা থেকে কাঁচামাল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে মাল নষ্ট হয়ে যাবে, বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করা হলেও পেট্রল ও অকটেনের সংকট বেশি প্রকট। কোথাও কোথাও অল্প পরিমাণে পেট্রল বা অকটেন সরবরাহ করা হলেও চাহিদা বেশি থাকায় তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালকরা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তেল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কড়াকড়ি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, শিগগিরই জেলার পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠাকুরগাঁওয়ে তেল সংকট, পাম্পের লাইনে ভিড়-দুর্ভোগ : জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। তেল পাওয়ার আশায় অনেকেই মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে হাতে নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন ভিড় ও দুর্ভোগ। সদর উপজেলার ভূল্লী তিয়াস তিমুসহ বিভিন্ন পাম্পে সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত মানুষ তেলের অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ পুরো বাইক নিয়ে, আবার কেউ শুধু ট্যাংকি খুলে হাতে নিয়ে লাইনে যোগ দিচ্ছেন- যেন যেভাবেই হোক সামান্য তেল সংগ্রহ করতে হবে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ হওয়ায় সবাই তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কেউ কেউ নিয়ম ভেঙে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যার ফলে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটছে। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, দুপুর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাইনি। কেউ কেউ ট্যাংকি খুলে এনে লাইনে দাঁড়াচ্ছে, এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে। এদিকে, ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলায় বর্তমানে ৩৭টি পেট্রোল ও ডিজেল ফিলিং স্টেশন রয়েছে।