
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য আগামী ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশন সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা অনুসারে যাদের মনোনয়ন দেবে, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন। এক্ষেত্রে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি আসন এবং একজন স্বতন্ত্র আসন পাবেন। ইতোমধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় ও জোটের তালিকা ইসিতে জমা দিয়েছে বলে জানান তিনি। আইন অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচনী ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এ নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেক্ষেত্রে এ নির্বাচনের সময় রয়েছে আগামী ১৪ মে পর্যন্ত এবং কমিশন এ ভোটের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায় বলে জানান ইসি সচিব। আসন্ন ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের ভোট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনকে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। শেরপুর-৩ আসনে পোস্টাল ভোটের কেন্দ্রসহ মোট ১২৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। বগুড়া-৬ আসনে পোস্টাল ভোটের কেন্দ্রসহ মোট ১৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
ইসি সচিব জানান, উভয় স্থানেই নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘ইভিএম’ ব্যবহার হবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তিনটি আলাদা প্রতিষ্ঠান ‘ইভিএম’ ব্যবহার নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। তাদের থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে ইসি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে ৫০টি মামলা রয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনসামগ্রী সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে এসব নির্বাচনের সামগ্রী ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। সেইসঙ্গে, যে ?দুটি আসনের ফলাফল আদালতের আদেশে স্থগিত আছে, সে ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে ইসি। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহসহ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ৩৬, জামায়াত পাচ্ছে ১৩ আসন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে আনুপাতিক হার অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোটগতভাবে ৩৬টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটগতভাবে ১৩টি আসন পাচ্ছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটবদ্ধ হয়ে পাবেন একটি আসন। গতকাল সোমবার ১১-তম কমিশন সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইসি সচিব জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য আগামী ৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মে।
ইসির তথ্যানুযায়ী দলগুলো জোটগত অবস্থানের ভিত্তিতে নারী আসন বরাদ্দ পেয়েছে। বিএনপির জোটে জুনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন, নূরুল হক নূরের গণঅধিকার পরিষদ এবং আন্দালিব রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মিলে মোট ৩৬টি আসন পাবেন। জামায়াত জোট পাবে ১৩টি আসন। জামায়াতের সঙ্গে জোটে রয়েছে, এনসিপি ও খেলাফত আন্দোলন। এছাড়া স্বতন্ত্রদের পক্ষ থেকে পাবেন একজন। ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে একটি জোট গঠন করায় তারা একটি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছেন। সচিব আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
আইন অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফলাফল আসে, সেই সংখ্যক সংরক্ষিত নারী আসন লাভ করে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত রয়েছে এবং বগুড়া-৬ আসনটি তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল এখনও প্রকাশ করেনি কমিশন।