ঢাকা রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ আলোচনায় ‘নারাজ’ ইরান

হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ আলোচনায় ‘নারাজ’ ইরান

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করা হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর আবারো হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। ইরানি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’। এই কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘জলদস্যুতায়’ হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধের ঘোষণা ইরানের : ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের এ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে।

এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে কার্যকর’ থাকবে। ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থানের কারণেই তেহরান পাল্টা সিদ্ধান্ত নিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

হরমুজে ভারতীয় ট্যাংকারে ইরানের গুলি, পিছু হটল ২ জাহাজ : হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের সময় ইরানের নৌবাহিনীর গুলির মুখে পড়ে দুটি ভারতীয় জাহাজ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। খবরে বলা হয়েছে, জাহাজগুলোর একটি ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী একটি ভিএলসিসি সুপারট্যাংকার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি তেল বহন করছিল। ঘটনার অডিও রেকর্ডিংয়ে জাহাজগুলোর ক্যাপ্টেনদের বলতে শোনা যায়, তারা প্রণালী অতিক্রমের জন্য অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে ইরানের নৌবাহিনী থেকে জানানো হয়, বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী ট্যাংকারগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে প্রণালীতে নতুন করে কোনো জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। এর আগে, ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নিলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শত্রুদের নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দেওয়া হবে।’ তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘দুর্বলতা ও অপমান’ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের ড্রোন যেমন দ্রুতগতিতে হামলা চালাতে সক্ষম, তেমনি দেশটির নৌবাহিনীও শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা শুরু করতে পারে।

দ্বিতীয় দফার আলোচনায় রাজি হয়নি ইরান : ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তেহরান এখনও রাজি হয়নি। এমনকি এই আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি। গতকাল শনিবার অজ্ঞাত এক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ওই সূত্র বলেছে, বার্তা আদান-প্রদানের সময় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি উপস্থাপন করেছে বলে মনে করে ইরান। যে কারণে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সেসব দাবি ত্যাগ করাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে বেধে দিয়েছে তেহরান। পাকিস্তানের এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের শর্তাবলি পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। ওই সূত্র বলেছে, ‘আমরা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমেরিকান পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরা দ্বিতীয় দফার আলোচনায় রাজি নই।’ কোনও ফলাফল বয়ে আনে না এমন দীর্ঘমেয়াদি আলোচনায় ইরান সময় নষ্ট করতে চায় না বলেও মধ্যস্থতাকারীদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ বলেছেন, উভয় পক্ষ একটি অভিন্ন কাঠামোতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা হতে পারে না। তিনি বলেন, যতক্ষণ না আমরা কাঠামোর বিষয়ে একমত হচ্ছি, ততক্ষণ আমরা কোনো তারিখ নির্ধারণ করতে পারি না। ইরানের এই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় ইরান যা কিছুতেই সম্মত হোক না কেন, তাতে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দেশটির অধিকার সংরক্ষিত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইনের ব্যতিক্রম কিংবা নিজের অধিকার বিসর্জন দেওয়া মেনে নেবে না।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে কোথাও যাবে না - তেহরান : নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করা দাবি প্রত্যাখ্যান করে তেহরান বলেছে, তারা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কাউকে দেয়নি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি আল-জাজিরাকে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা বা তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো প্রস্তাব তেহরান ‘সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে। এ বিষয়টিকে ইরান তাদের ‘কৌশলগত রেড লাইন’ (চরম সীমা) হিসেবে বিবেচনা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করবে। এমনকি গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক ‘ধুলো’ (নিউক্লিয়ার ডাস্ট) নিয়ে নেবে।’ ট্রাম্পের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থায় এটি কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।’ উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন।

যেকোনো উপায়ে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কবজায় নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের : আলোচনা ব্যর্থ হলে অবন্ধুসুলভ বা কঠোর পন্থায় হলেও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কবজায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান এ দাবিকে অগ্রহণযোগ্য বা ‘নন-স্টার্টার’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান ‘সবকিছুতে রাজি’ হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ও রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এ কাজে মার্কিন স্থল সেনাদের (বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড) প্রয়োজন হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘না, কোনো সেনার প্রয়োজন হবে না। আমরা তাদের সঙ্গে গিয়ে এটি নিয়ে আসব। ততক্ষণে আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়ে যাবে, আর চুক্তি থাকলে তো লড়াইয়ের প্রয়োজন নেই।’ পরে অ্যারিজোনায় এক নির্বাচনি জনসভাতেও ট্রাম্প এ দাবির পুনরাবৃত্তি করেন। সেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির মূল বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক ‘ধুলো’ (নিউক্লিয়ার ডাস্ট) নিয়ে নেবে। আপনারা জানেন পারমাণবিক ধুলো কী? আমাদের বি-২ বোমারু বিমানগুলো যে সাদা গুঁড়ো তৈরি করেছিল, সেটাই ওটা। আমরা যেকোনোভাবেই হোক এটা নিতাম, তবে ওভাবে (হামলার মাধ্যমে) নেওয়াটা একটু বেশি বিপজ্জনক।’

বুধবারের মধ্যে চুক্তি না করলে ইরানে আবার হামলা শুরু - ট্রাম্প : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আগামী বুধবারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বুধবারের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হয়তো এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় থাকবে। ফলে একদিকে অবরোধ থাকবে, অন্যদিকে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমা হামলা শুরু করতে হবে।’

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সব দাবি মিথ্যা- ইরান : ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক ঘণ্টায় যে সাতটি দাবি করেছেন, সেগুলোর সবই মিথ্যা। গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের একাধিক মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, এই মিথ্যা দিয়ে তারা যুদ্ধেও জয়ী হয়নি এবং আলোচনাতেও কোনো অগ্রগতি করতে পারবে না। গালিবাফ আরও বলেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা থাকবে না। প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্ধারিত রুট অনুসারে এবং ইরানের অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়মকানুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ফিরল বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘জেরাল্ড ফোর্ড’, যাচ্ছে আরও একটি : বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ আবারও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা এই রণতরী সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ‘ইউএসএস মাহান’ ও ‘ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল’ নামে দুটি ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) রয়েছে। সামরিক অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষায় ওই কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজপথে অস্ত্র হাতে ইরানি নারীরা : ইরানের রাজধানী তেহরানে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইরানের নিবেদিতপ্রাণ কন্যারা’ (ডিভোটেড গার্লস অব ইরান) শীর্ষক এই র‌্যালিতে অংশ নেন হাজার হাজার নারী ও তরুণী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে সরকারপন্থিদের এই ধরনের বিক্ষোভ এখন প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর সিএনএনের।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারী নারীরা হাতে বন্দুক ও জাতীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে স্লোগান দিচ্ছেন। তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থানের জানান দেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জোহরা ইলখান নামের এক নারী বলেন, আমরা যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত। আমরা তাদের হুমকি বা হামলাকে ভয় পাই না। তারা যদি আমাদের শর্ত মেনে মাথা নত করে আলোচনায় আসে, তবেই আমরা বসব। প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা আমাদের নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে চলব। এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে আলোচনার কথা ভাবছে। তবে রাজপথের এই উত্তাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক সোমবার পাকিস্তানে : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা আগামীকাল সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। আলোচনায় সংশ্লিষ্ট, এমন ইরানি সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ওই কর্মকর্তারা জানান, আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের আজ ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। দুই দেশের বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ নতুন দফার বৈঠক থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত