ঢাকা রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হরমুজ প্রণালীতে ফের আটকে গেল ‘বাংলার জয়যাত্রা’

হরমুজ প্রণালীতে ফের আটকে গেল ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নৌপথ পার হতে পারেনি।

বিএসসি সূত্রে জানা যায়, ইরানের ঘোষণার পর গত রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের থেকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর উদ্দেশে রওনা দেয়। কয়েক ঘণ্টা পর প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছালে রেডিওতে ইরানের নৌবাহিনী ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ অন্যান্য সব জাহাজকে ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়। অনুমতি পেতে জাহাজগুলোতে আরও অপেক্ষা করতে বলা হয়। এর পরই ‘বাংলার জয়যাত্রা’ পারস্য উপসাগরের একটি অ্যাংকরেজে ফিরে আসে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিএসসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করে। ভোরে প্রণালী পার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইরানের নৌবাহিনী রেডিওর মাধ্যমে সব জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করে থামার নির্দেশ দেয়। তারা জানায়, হরমুজ পার হওয়ার জন্য ইরান সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের নৌবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনো জাহাজ নির্দেশ অমান্য করলে এবং তার ওপর কোনো হামলা হলে, এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজের কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। বর্তমানে জাহাজটি নিরাপদে অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ‘বাংলার জয়যাত্রা’ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। এর আগে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর জাহাজটি দুবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়। বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে- শেখ রবিউল আলম : হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে না পারা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইস্যুতে কূটনৈতিক পর্যায়ে তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের ২৮তম ব্যাচের রেটিংসদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজটি পার হতে না পারার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী পেট্রল পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। ‘

এর প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার লিটার ডিজেল মজুত করে রাখার ঘটনা ধরা পড়েছে। সরকার এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে’- বলেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কোনো সংকট নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। তারপরও সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তর প্রসঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। বন্দরের লাভ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত