ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অবসরে ৩০% গ্র্যাচুইটি পাবেন বেসরকারি কর্মীরা

অবসরে ৩০% গ্র্যাচুইটি পাবেন বেসরকারি কর্মীরা

বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসর গ্রহণকালে মোট অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে।সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘটা করে শুরু করা এই পেনশন স্কিমের চারটি স্কিমে ৩০ মে পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধন করেছেন। এই তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮৬ কোটি টাকা।

গত ৩ জুন এক পর্যালোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসর-পরবর্তী কোনো আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি পেনশনের আওতায় থাকলেও বেসরকারি খাতে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এই শূন্যতা পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করা হয়।সভায় প্রগতি স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করে বলা হয় এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত। প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগ দিলে চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দেবে। মাসিক চাঁদার পরিমাণ: ১,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা। মাসিক চাঁদায় আয়কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশন আয়করমুক্ত। পেনশনারদের ৬০ বছর পূর্তির পর কর্পাসের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বিনিয়োগ। শেষ বয়সে সব শ্রেণির মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ২০২৩ সালের ১৭ অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। কিন্তু ৫ অগাস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই স্কিম নিয়ে জনমনে এক ধরেনের অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর পেনশন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও জনগণের সাড়া তলানিতে নামে। শুরুতে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা’ ও সমতা স্কিম চালু করা হয়েছিল। পরে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রত্যয় স্কিম চালু করতে গিয়ে ধাক্কা খায় কর্তৃপক্ষ। অংশীজনদের বিরোধিতার মুখে ওই প্যাকেজ আর চালু করা যায়নি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত