ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অতিরিক্ত গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

নাদিয়াতুল জান্নাত সারা
অতিরিক্ত গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ- এই দুই মাস গ্রীষ্মকাল। কিন্তু বাংলাদেশের আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মের তীব্রতা এখন আর শুধু এই দুই মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ হলেও বর্তমানে বছরের বেশিরভাগ সময় গরমের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হচ্ছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর ওপর। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন জনজীবনে ডেকে আনছে চরম বিপর্যয়, যার স্পষ্ট রূপ দেখা যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত রাজশাহীতে। সেখানকার তীব্র গরম এখন সাধারণ মানুষের চলার পথে এক অসহ্য বাঁধা। শিক্ষানগরী রাজশাহীতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েটসহ অসংখ্য কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন এই অঞ্চলে। কিন্তু আবহাওয়ার হঠাৎ এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে সাধারণ জনগণকে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে, বিশেষ করে তীব্র এই গরমে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যা তাদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

তাছাড়া রাজশাহীর অন্যতম বড় সমস্যা হলো বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। তীব্র গরমে পিপাসা মিটাতে গিয়ে অনেকে অনিরাপদ পানি পান করছে, যার ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।? এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করবে এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে।

দুপুরে যথাসম্ভব বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে বের হলে সঙ্গে অবশ্যই ছাতা ও পানির বোতল রাখতে হবে। তবে সাময়িক এই সতর্কতার পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার। পরিবেশ থেকে আমরা যে অক্সিজেন গ্রহণ করি, তা টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ দূষণ রোধ ও নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি, প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকতে হলে নিজেদেরকে কৌশলী হতে হবে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পুরো রাজশাহী অঞ্চলে এখনই পরিকল্পিত বনায়ন ও জলাশয় রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বৃক্ষনিধন নয় বরং বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করতে হবে। তানাহলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।

নাদিয়াতুল জান্নাত সারা

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত