ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বেনজীরকে ফেরত নিতে বলল আরব আমিরাত, প্রক্রিয়া শুরু

* ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত নেওয়ার আহ্বান আরব আমিরাতের * ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জানাল দুদক * বেনজীরের বিরুদ্ধে তিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে : চিফ প্রসিকিউটর
বেনজীরকে ফেরত নিতে বলল আরব আমিরাত, প্রক্রিয়া শুরু

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দুবাই ট্রানজিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘এনসিবি আবুধাবি’ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ‘এনসিবি ঢাকা’ শাখায় এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত দেশটির ‘ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬’-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

দুবাই থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ (নং- অ-৫১৭৪/৪-২০২৫) অনুযায়ী বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমের সাহায্যে লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ জমা দিতে হবে। অন্যথায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মূল অনুরোধপত্রের সঙ্গে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সম্পূর্ণ আরবি ভাষায় অনুবাদ করে, উপযুক্ত স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিগুলো নিম্নরূপ:

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, বিস্তারিত বিবরণ, ছবি এবং তার জাতীয়তা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য। ২. যে অপরাধের জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনে তার সুনির্দিষ্ট ধারা, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সীমাবদ্ধতার সংবিধির কপি। ৩. বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ৪. মামলার ঘটনার বিবরণ, অপরাধের ধরন, সময় ও স্থান উল্লেখপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি। ৫. যদি ব্যক্তিটি এরইমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তবে আদালতের রায় এবং সাজা কার্যকরের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি।

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে- দুদক : পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। তিনি জানান, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বেনজীরকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ চলছে।

আকতারুল ইসলাম আরও বলেন, মামলাগুলোর নথিপত্র চূড়ান্ত হলে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জারি করা ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’-এর ভিত্তিতে তাকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুবাই পুলিশ গত ১২ জুন বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।

ট্রাইব্যুনালে ১০ মামলা : বেনজীর গ্রেপ্তারের পর আজ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। তার বিষয়ে তিনটি পরোয়ানা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা ইন্টারপোলে পাঠানো হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে একটি মামলার আইনি কার্যক্রম এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলার তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে। কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শিগগিরই এই অভিযোগ জমা দেওয়া হবে।

মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আরও ছয় থেকে সাতটি মামলার তদন্ত চলছে। বেনজীর একাধিক গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছিল, তবে সেগুলো ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে। এ জন্য দুদক এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেছে।

বেনজীরের বিরুদ্ধে তিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে- চিফ প্রসিকিউটর : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আমিনুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। তাকে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

সাবেক আইজিপি বেনজীরের মামলার কী হাল : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দোর্দণ্ড প্রতাপে আইজিপি ও র‌্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ সামনে আসছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে প্রায় আড়াই বছর দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান তিনি। সংবাদমাধ্যমে তার ও পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হলে বেনজীরের অবসরের বছর দুয়েক পর নড়েচড়ে বসে দুর্নীতি দমন কমিশন।

দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে শত শত বিঘা জমি, একাধিক ফ্ল্যাট, রিসোর্ট, কোম্পানির শেয়ার অর্জন এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য উঠে আসে। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদের বড় অংশ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ দশায় রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসার আগেই ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলে সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে একের পর এক চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টার মামলা হতে থাকে। আর দুদক পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধান শেষে ছয়টি মামলা দায়ের করে। তিন মামলায় বেনজীরকে করা হয় প্রধান আসামি। পাশাপাশি স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের পৃথক তিন মামলায় তাকে সহযোগী দেখানো হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলাতেও আসামি হিসেবে বেনজীরের নাম রয়েছে। দুদকের করা মামলার মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি মামলা তদন্তাধীন। আর অবৈধ সম্পদ অর্জনের এক মামলায় বেনজীরকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়েছে। দ্রুতই মামলার বিচার শেষ হবে এমনটায় আশা করছে দুদক।

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির দুই মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গত শুক্রবার দুবাই থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বেনজীর আহমেদ। খুব শিগগির তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে রোববার সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মামলার বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের উপসহকারী পরিচালক আক্কাস আলী জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যের নামে থাকা অপর পাঁচ মামলা তদন্তাধীন।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতেই দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। তিনি পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

‘দ্রুত সময়ে এই মামলার বিচার কাজ শেষ করা হবে। এছাড়া অপর মামলাগুলো তদন্ত হয়ে আসলে দ্রুত সময়ে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে?’

বিচারাধীন মামলা : ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।

বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

এও বলা হয়েছে, ‘বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।’

গত ৮ মার্চ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর ৩ মে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন। মামলায় গত ১৩ মে বাদী হাফিজুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। আর ২০ মে সাক্ষ্য দেন চারজন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ জুন দিন ঠিক করা আছে।

তদন্তাধীন পাঁচ মামলা : অর্থপাচার মামলা: বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ অবৈধভাবে অর্জিত ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদে তোলার পর কোথাও বিনিয়োগ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থ উত্তোলনের পরই বিদেশে চলে যান।

বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যারা ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময় তাদের নামে দীর্ঘদিনের এফডিআর হিসাব মেয়াদোত্তীর্ণের আগেই একযোগে উত্তোলন করেছেন। এফডিআরের অর্থের গ্রহণযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি, যা বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে মনে করছে দুদক। স্ত্রী ও দুই মেয়ের মামলায় সহযোগী আসামি বেনজীর: ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে দুদক। তিন মামলায় বেনজীরকে সহযোগী আসামি করা হয়।

এসব মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জীসান মির্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ১৬ কোটি ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৩৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।

ফারহিন রিশতা বেনজীরের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ২৭৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। বেনজীর আহমেদের অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তারা এই সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের ভাষ্য।

পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলা: সরকারি চাকরিতে থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে?

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সাবেক পরিচালক মো. ফজলুল হক, সাবেক পরিচালক মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার পরও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে পেশার স্থানে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করে জাল জালিয়াতি-প্রতারণার আশ্রয় নেন। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি, অতিরিক্ত আইজিপির পদমর্যাদায় র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এই জালিয়াতি করেন। তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়াই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও ই-পাসপোর্টের (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) জন্য আবেদন করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত