
গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম. ছালেহ জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে টেলিভিশন শিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প খাত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।
বৈঠকে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরকারের সহযোগিতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আগামী ১৮ জুনের সংলাপের দিকে, যেখানে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকার সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্নের নির্দেশ : যানজট নিরসনে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে বৈঠকে তি?নি এ নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবা?দিকদের জানিয়েছেন।
বৈঠকের বরাতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ঢাকার যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।
এছাড়া, রাজধানীর পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনগুলো সরানোর বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।
গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে। ফলে, এসব সড়কে যান চলাচলে পর্যায়ক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে এবং যানজট সমস্যাও কমছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।