ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি!

ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে।’ এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সে আশাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে নতুন সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারকে আবারও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ফের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি প্রশ্নবিদ্ধ : যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

আল জাজিরা লিখেছে, শুক্রবার একটি পণ্যবাহী জাহাজে ‘ড্রোন’ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড-সেন্টকমের ভাষায়, ‘শক্তিশালী পাল্টা হামলা’ চালানো হয়েছে। সেন্টকম বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ এলাকা এবং উপকূলীয় রেডার স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’ ড্রোন হামলার শিকার হয়।

আল জাজিরা লিখেছে, ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, পাল্টাপাল্টি এই হামলার ঘটনা সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা হামলা চালায়। বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যে মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে দুই দেশ সম্মত হলেও হরমুজ প্রণালি অচল ছিল।

সবশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাও শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। এর মধ্যেই নতুন করে হামলা পাল্টা হামলা হল।

এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ‘যখন আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে বাণিজ্য প্রবাহ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে, তখন ইরানের বিপজ্জনক আচরণ নৌযান চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলেছ।’

ঘোষণার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর সিরিকের কাছে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এর পরেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা জবাবে তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি বার্তা ইরনা বলেছে, এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ার করে বলেছে, ‘বারবার আগ্রাসনের ঘটনায় এখনকার তুলনায় আমাদের হামলা হবে আরো বেশি বিস্তৃত।’ আল জাজিরা লিখেছে, ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে যুদ্ধবিরতির ধারা যুক্ত রয়েছে। সমঝোতার এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দুই দেশই পরস্পরকে দায়ী করছে।

এই চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা রয়েছে, যাকে ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা কার্যকরভাবে বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত না হলেও তা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার প্রাথমি কাঠামো। সেখানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়েও ভবিষ্যৎ আলোচনার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেল, সার ও অন্যান্য পণ্যের দামে উল্লফন ঘটে। গত বৃহস্পতিবার হামলা ঘটনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ফের উসকে দিয়েছে। পরদিন শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘এভার লাভলি’ জাহাজে হামলাকে তিনি সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ৬০ দিন ইরান কোনো মাশুল ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে। যদিও ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে ইসরায়েলের কারণে। দেশটি সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে লেবাননে বোমা হামলা করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ইরান গত সপ্তাহে বলেছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলেও তারা হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেবে। গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে ‘এভার লাভলি’ জাহাজে হামলায় কোনো নাবিক হতাহত হওয়ার খবর মেলেনি এবং জাহাজ তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

তবে এই হামলার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে দায়ী করে বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার সময় জাহাজগুলোতে চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ছোড়া হয়েছে।” তার দাবি, মার্কিন বাহিনী তিনটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে, অন্যটি জাহাজে আঘাত করেছে।

ডনাল্ড ট্রাম্প ‘এভার লাভলি’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করেছেন, “ড্রোনগুলোর একটি বড় ও খুব দামি একটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপরের ডেকে আঘাত করেছে।” এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ১৭ জুনের সমঝোতা এখনো কী অক্ষুণ্ন আছে? জবাবে তিনি বলেন, “গতকাল তারা হামলা চালিয়েছে—বিষয়টি আমার পছন্দ হয়নি।” এরপর তিনি সংক্ষেপে ‘এভার লাভলি’ জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে বলেন, “এটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের এমনটি করা উচিত নয়। এর পরিণতি কী হয়, তা আপনারা দেখতে পাবেন।”

শুক্রবার সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ‘এভার লাভলি’ জাহাজে হামলার ঘটনাকে ওই সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

“বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর অনাকাঙ্ক্ষিত এই হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাছাড়া “যখন আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে বাণিজ্য প্রবাহ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে, তখন ইরানের বিপজ্জনক আচরণ নৌযান চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলেছ।”

সকল বাণিজ্যি জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখতে মার্কিনী বাহিনী তাদের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরে। তাছাড়া তারা সমঝোতা স্মারক মেনে চলতে সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ার করে বলেছেন, “সহিংসতার জবাবে সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।” সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছে, “ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, আমরা সেটিকে সম্মান করি। যদি “সমঝোতা স্মারকের প্রয়োগ নিয়ে কোনো আপত্তি বা মতবিরোধ থাকলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।”

শত্রুরা নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে : আট বছরব্যাপী পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ চলাকালীন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আমেরিকান নিউজ নেশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন: শত্রুরা যদি ভুল করে, তবে পরবর্তী যুদ্ধটি তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মতো হবে না এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে।

ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আট বছরব্যাপী পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি আমেরিকান নিউজ নেশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন: বিগত সাতচল্লিশ বছর ধরে আমেরিকার সরকারগুলোর সাথে ইরানের অন্যতম গুরুতর সমস্যা হলো, তারা কখনো ইরানের অবস্থানকে সঠিকভাবে শোনার, বোঝার এবং বিশ্বাস করার চেষ্টা করেনি, তাই তারা সবসময় ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা বা ইরানের প্রতি বিরাগভাজনদের ইঙ্গিতে প্রভাবিত হয়েছে এবং এটাই আমেরিকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তাবলী প্রসঙ্গে বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর সাবেক এই কমান্ডার বলেন: মার্কিন সরকারকে অবশ্যই ইরানি জনগণের অধিকার স্বীকার করতে হবে এবং মেনে নিতে হবে যে, ইরানি জনগণের অধিকার রয়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই কাজ করে এবং তাদের সম্পর্কও আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। পরবর্তী বিষয়টি হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ এবং তৃতীয় বিষয়টি হলো হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা যা স্বয়ং ইরানেরই অংশ।

মার্কিন জনগণ ও তাদের পরিবারবর্গকে উদ্দেশ্য করে মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন: আমরা মার্কিন জনগণকে মার্কিন সরকার থেকে পৃথক একটি সত্তা হিসেবে বিবেচনা করি এবং আমরা চাই না যে মার্কিন জনগণ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হোক। অতএব, মার্কিন জনগণের জানা উচিত, ইরানি জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা বিপদ নেই, বরং আমরা মার্কিন সেনাবাহিনী এবং মার্কিন সরকারের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢভাবে রুখে দাঁড়াই এবং আত্মরক্ষা করি।

মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সবশেষে বলেন, “মার্কিন সরকার ও এর কর্মকর্তাদের জানা উচিত, ইরানি জাতি একটি মহান ঐতিহাসিক জাতি এবং কোনো হুমকিতে তারা রণাঙ্গণ ছেড়ে যাবে না বরং নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। সুতরাং, মার্কিন সরকারকে অবশ্যই তার গৃহীত ভুল পথ থেকে ফিরে এসে একটি নতুন পথ গ্রহণ করতে হবে।শত্রুরা নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে: মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি

আট বছরব্যাপী পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ চলাকালীন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আমেরিকান নিউজ নেশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন, শত্রুরা যদি ভুল করে, তবে পরবর্তী যুদ্ধটি তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মতো হবে না এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে। ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, আট বছরব্যাপী পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি আমেরিকান নিউজ নেশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিগত সাতচল্লিশ বছর ধরে আমেরিকার সরকারগুলোর সাথে ইরানের অন্যতম গুরুতর সমস্যা হলো, তারা কখনো ইরানের অবস্থানকে সঠিকভাবে শোনার, বোঝার এবং বিশ্বাস করার চেষ্টা করেনি, তাই তারা সবসময় ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা বা ইরানের প্রতি বিরাগভাজনদের ইঙ্গিতে প্রভাবিত হয়েছে এবং এটাই আমেরিকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তাবলী প্রসঙ্গে বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর সাবেক এই কমান্ডার বলেন: মার্কিন সরকারকে অবশ্যই ইরানি জনগণের অধিকার স্বীকার করতে হবে এবং মেনে নিতে হবে যে, ইরানি জনগণের অধিকার রয়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই কাজ করে এবং তাদের সম্পর্কও আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। পরবর্তী বিষয়টি হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ এবং তৃতীয় বিষয়টি হলো হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা যা স্বয়ং ইরানেরই অংশ।

মার্কিন জনগণ ও তাদের পরিবারবর্গকে উদ্দেশ্য করে মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন: আমরা মার্কিন জনগণকে মার্কিন সরকার থেকে পৃথক একটি সত্তা হিসেবে বিবেচনা করি এবং আমরা চাই না যে মার্কিন জনগণ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হোক। অতএব, মার্কিন জনগণের জানা উচিত, ইরানি জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা বিপদ নেই, বরং আমরা মার্কিন সেনাবাহিনী এবং মার্কিন সরকারের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢভাবে রুখে দাঁড়াই এবং আত্মরক্ষা করি।

মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সবশেষে বলেন, “মার্কিন সরকার ও এর কর্মকর্তাদের জানা উচিত, ইরানি জাতি একটি মহান ঐতিহাসিক জাতি এবং কোনো হুমকিতে তারা রণাঙ্গণ ছেড়ে যাবে না বরং নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। সুতরাং, মার্কিন সরকারকে অবশ্যই তার গৃহীত ভুল পথ থেকে ফিরে এসে একটি নতুন পথ গ্রহণ করতে হবে।

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর কয়েকটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তরটি বারবার আক্রান্ত হয়।

কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এ হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তর এবং আরও অন্তত এক ডজন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর) এখন পর্যন্ত এ ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

এদিকে এ যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) নামে পরিচিত। এ চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।

এ সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ লাভজনক হয়নি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত