
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে শনিবার সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন।
আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৮ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট’ সময় পার করে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।
এই সফর বাংলাদেশের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া এবং চীনের সম্পর্ক আরো দৃঢ হয়েছে এবং অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনি এই সফরে অনেকগুলো চুক্তি সম্পাদন করেছেন এবং মালয়েশিয়ার এবং একই সঙ্গে গণচীনের সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো দৃঢ হয়েছে।”প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সংসদে কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আজকে আমাদের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত দীর্ঘ একটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দেওয়ার পরে আমাদের নেতা তিনি ইতিমধ্যেই একটি জাতীয়ভাবে আন্তর্জাতিকভাবে তিনি একটা নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ তার সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করেছে যে তিনি অত্যন্ত দৃঢতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করছেন এবং পুরনো সমস্ত খারাপ জিনিসকে বাদ দিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছেন।” আগের সরকারগুলোর সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে সংবর্ধনার আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই সংস্কৃতি বন্ধ করেছেন।
তিনি বলেন, “ইতোপূর্বে যখন প্রধানমন্ত্রীরা বাইরে যেতেন তখন আপনার একটা বিরাট সমবর্ধনা ব্যবস্থা করা হত, দেশ থেকে ফিরলে আবার রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে একটা বড় রকমের সংবর্ধনা আয়োজন করা হত যেটা তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন কোনরকমের সংবর্ধনা না দেওয়ার।”
চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “গণচীনের সঙ্গে ১৭টি এমওইউ হয়েছে মাননীয় স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাইলেটারাল যে মিটিং হয়েছে সে মিটিং এমওইউগুলো সই হয়েছে এবং গণচীনের সব প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে তিনি দীর্ঘক্ষণ তারা আলোচনা করেছেন, সভা করেছেন, বৈঠক করেছেন অত্যন্ত হৃদ্রতার সঙ্গে এই আলোচনাগুলো হয়েছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মালয়েশিয়া ও চীন তাদের ভূমিকা শুধু ‘অক্ষুণ্ণই রাখবে না, তা আরও বাড়াবে ও সম্প্রসারিত করবে’। তিনি বলেন, “আমাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে বিভিন্নভাবে সেই সব সমস্যাগুলোর সঙ্গে তারা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন। এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারেও সমাধান ইঙ্গিত তারা দিয়েছেন এবং সে ব্যাপারে তারা উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।”এরপর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণের অনুরোধ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
পরে লিখিত প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি বলেন, “প্রস্তাব করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬শে জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য এই মহান সংসদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদনেতা জনাব তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিককালে মালয়েশিয়া এবং চীন সফর সম্পর্কিত যে প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংসদে উত্থাপন করেছেন সেটি সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব হিসেবে সংসদে উত্থাপিত হল।”
এরপর বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মির্জা ফখরুলের প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি একমত। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে সংবর্ধনার পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে আসাকে তিনি ‘বিরাট কালচারাল চেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
আমির খসরু বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে কালচারাল একটা পরিবর্তন আনার প্রয়োজন সেটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন।”
তিনি বলেন, “উনি বলেছেন অলরেডি উনি যাওয়ার সময়ও এয়ারপোর্ট ওই লোক হাজার লোক ওই সম্বর্ধনা আসার সময়ও করে নাই। এটা কিন্তু একটা বিরাট কালচারাল চেঞ্জ বাংলাদেশের। হি ইজ সেটিং স্ট্যান্ডার্ড এন্ড প্রাইম মিনিস্টার ইজ সেটিং দ স্ট্যান্ডার্ড হি ইজ সেটিং দ্যা স্ট্যান্ডার্ড আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতিকে।”
পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি নিয়েও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ভিত্তি ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সেই অবস্থান, যেখানে প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক মর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ, হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে।
আমির খসরু বলেন, “আমাদের সাথে প্রত্যেকটি দেশের সম্পর্ক হবে অন মিউচুয়াল রেসপেক্ট, অন মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট, ওয়ান অফ নন ইন্টারফেয়ারেন্স এবং স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি আমাদের নিজস্ব অটোনমির ভিত্তিতে।”এই সফরের মধ্য দিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ‘বেঞ্চমার্ক’ আবারও নিশ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ভিজিট সেটা প্রমাণ করেছেন আমাদের অন্য দেশের সাথে সম্পর্কের যে বেঞ্চমার্ক উনি সেটা আবার কনফার্ম করেছেন, যেটা বিএনপির রাজনীতিতে সব সময় ছিল, যেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এস্টাবলিশ করেছিলেন।” আমির খসরু বলেন, প্রত্যেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাকে দেশের ও জনগণের স্বার্থে কাজে লাগানো হবে। বিএনপির রাজনীতির শুরু থেকে যে ‘মাল্টিল্যাটারালিজমের’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাংলাদেশের স্বার্থ রয়েছে বলেও সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মালয়েশিয়াতে আমাদের শ্রমবাজারের একটা বড় ইন্টারেস্ট রয়েছে। মালয়েশিয়ার সাথে আমাদের এনার্জির একটা বড় ইন্টারেস্ট রয়েছে এবং অন্যান্য ট্রেড ইন্টারেস্ট রয়েছে। ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্টারেস্ট রয়েছে।” চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্কের কথাও তিনি তুলে ধরেন। আমির খসরু বলেন, “চায়নার সাথে আমাদের এগেইন বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে। চায়নার সাথে বিশাল ট্রেড আমাদের সাথে একচুয়ালি দে লার্জেস্ট ট্রেড পার্টনার অফ বাংলাদেশ।”চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটাকে আরো কিভাবে বাংলাদেশের পক্ষে যে ট্রেড গ্যাপ যেটা আছে চাইনার সাথে এটা আমরা আরো কিভাবে সেখানে রপ্তানি বাড়াতে পারি সেই ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে মাননীয় স্পিকার।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি এই ভিজিটটি উনি যে একটা বেঞ্চমার্ক যে মানদণ্ড স্থাপন করেছেন এটা আগামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু নয় বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের কি সম্পর্ক হবে সেটা নিশ্চিত করেছে।”
প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, মির্জা ফখরুল যে প্রস্তাব এনেছেন, তিনি তা সমর্থন করছেন।
তিনি বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার আমরা সকলেই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে থাকি। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই, বাস্তবায়ন করতে চাই।” বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “এই ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয় আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা সকল সহযোগিতায় করবো। সবকিছুর উপরে আমাদের প্রিয় দেশ।” প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফরে যাওয়া দেশ দুটি বাংলাদেশের ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ এবং ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর অর্থনীতি ও রপ্তানি বৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন বিরোধী দলের নেতা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটা ইমপোর্ট বেসড কান্ট্রি। আমাদের এক্সপোর্টের চেয়ে ইম্পোর্ট অনেক বেশি। ব্যবধানটা অনেক বড়।” বাংলাদেশের রপ্তানির মূল দুটি খাতের কথাও সংসদে বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের এক্সপোর্টের মূল দুইটা খাত। একটা হচ্ছে রপ্তানি। আমরা যেটা আরএমজিতে করে থাকি। আরেকটা আমাদের ম্যানপাওয়ার আমরা রপ্তানি বলি না তাদেরকে আমরা পাঠিয়ে থাকি।”
রপ্তানি ও জনশক্তি পাঠানোর খাতকে বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।
শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে এসব বিষয় মাথায় রেখেই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিদেশের সঙ্গে মৌলিক চুক্তি সংসদে আনার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী নেতা বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে এ চর্চা জরুরি। তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতিতে আছি খুবই ভালো হয় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার স্বার্থে জনগণের স্বার্থে বিদেশের সাথে যতগুলা মৌলিক চুক্তি সম্পাদিত হবে সেগুলো এই সংসদে নিয়ে আসা।” সংসদ সদস্যদের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই ৩৫০ মানুষই কিন্তু ১৮ কোটি মানুষ বা ২০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা যখন জানবেন তখন এর মধ্য দিয়ে সরকার এবং জনগণের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি হবে।” সম্পর্ক হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে—এ কথা সবাই বলেন এবং সবাই চান মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশা করেন প্রধানমন্ত্রী সেই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি এও আশা করি যে আমাদের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে কেউ হস্তক্ষেপ করুক এটা আমরা কখনো মেনে নেব না। দেশের স্বার্থ আগে।” চুক্তি বা সমঝোতা যাই হোক, তা যেন পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হয়, সে কথাও বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না কিন্তু আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না এই ভারসাম্যটা রক্ষা করেই আগামীর পলিসি যেন পরিচালিত হয়।” প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং সরকারের সফলতা কামনা করে বিরোধী নেতা বলেন, সংসদ যেন সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়।
তিনি বলেন, “সংসদকে বাইপাস করে যেন কিছুই না হয়। সবকিছু হোক সংসদের ভিতরে। এই সংসদ আলো ছড়াক।”
সরকারি দল সব কৃতিত্ব নেবে আর বিরোধী দল সবকিছুতে বিরোধিতা করবে, এমন সংস্কৃতিকে সমর্থন করেন না বলেও জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “এখানে সরকারি দল সকল ক্রেডিট নেবে আর বিরোধী দল সবকিছুতে বিরোধিতা করবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে এবং দলগতভাবে আমরা এই কালচার সমর্থন করি না সরকারি দলকেও বিরোধী দলকে সম্মান করতে হবে আর বিরোধী দলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে তার জায়গা থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা।”
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী দল থেকে প্রস্তাবের ওপর ‘সুচিন্তিত মূল্যবান মতামত’ এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর পররাষ্ট্রনীতিতে ‘নতুন দিগন্তের সূচনা’ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, “সহজেই অনুমিত হচ্ছে যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিককালের মালয়েশিয়া এবং চীন সফরটি পররাষ্ট্র নীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপত্তা আরো সংহত হবে বলে আমরা সবাই মনে করি।” অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষেও এই সফরকে ‘বলিষ্ঠ পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন স্পিকার।
তিনি বলেন, “বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপক্ষে অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ছিল এই সফর। সাথে সাথে আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।” ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কঠিন সময় পার করার কথাও সংসদে বলেন স্পিকার।
তিনি বলেন, “অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে ১৯৭১ সালে জাতি যুদ্ধ করে দেশটিকে স্বাধীন করেছে। তারপর অনেক কঠিন সময় আমাদেরকে পার করতে হয়েছে। এমন এমন সরকার এই দেশের জনগণ দেখতে পেয়েছে যারা স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ণ রাখার জন্য কোন প্রচেষ্টাই গ্রহণ করেনি।”
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার সাম্প্রতিক সফরের ফলে দেশবাসী ‘অত্যন্ত আশান্বিত’ হয়েছে মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, সাধারণ মানুষও এই সফর সফলভাবে শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
পরে স্পিকার মির্জা ফখরুলের উত্থাপিত প্রস্তাবটি ভোটে দেন।
তিনি বলেন, “সংসদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে সংসদের অভিমত এই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬শে জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য এই মহান সংসদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা জনাব তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে যারা এই প্রস্তাবের পক্ষে আছেন তারা ‘হ্যাঁ’ বলুন যারা প্রস্তাবের বিপক্ষে আছেন তারা ‘না’ বলুন।” এরপর স্পিকার বলেন, “আমার মনে হয় হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে হা জয়যুক্ত হয়েছে অতএব প্রস্তাবটি এই মহান সংসদ কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হল।”
মালয়েশিয়া ও চীন মিলে ছয়দিনের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
বৈশ্বিক সম্পর্ক কেমন হবে তা নিশ্চিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফরে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই ভিজিটে (সফর) প্রধানমন্ত্রী একটা মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। শুধু দেশের রাজনীতিতে নয়, বরং আগামীতে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে সেটা নিশ্চিত হয়েছে এই সফরে।
মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
চীন-মালয়েশিয়া সফর : প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে কালচারাল পরিবর্তন শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়ার সময় এবং আসার সময় লোকসমাগম করেননি। হাজার লোকের সমাগম করেননি এটা বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের বেঞ্চমার্ক কনফার্ম করেছেন, যেটা বিএনপির রাজনীতিতে সব সময় ছিল। আমরা কোথাও কম্প্রমাইজ করবো না। আমরা সম্পর্ক কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত।
আমির খসরু আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় আমাদের এনার্জি ও শ্রম বাজারের বড় একটা ইন্টারেস্ট রয়েছে।পাশাপাশি ট্রেড-ইনভেস্টমেন্টের একটা ইন্টারেস্ট রয়েছে। চীনের সঙ্গে বড় ট্রেডের বিষয় আছে। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নের একটা সম্পর্ক আছে। চীনের সঙ্গে ট্রেড গ্যাপ পূরণ করে রপ্তানি বাড়াবো। এই বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। চীন-মালয়েশিয়া সফরের ভিত্তি ছিল পররাষ্ট্রের ওপর ভিত্তি করে।