ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নীতি সুদহার বহাল রেখে ‘সংকোচনমূলক’ মুদ্রানীতি

নীতি সুদহার বহাল রেখে ‘সংকোচনমূলক’ মুদ্রানীতি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে নীতি সুদহার আগের মতই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতির বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় তিনি বলেন, আগামী মুদ্রানীতিও ‘সংকোচনমূলক ধারা’ বজায় রাখা হবে। নীতি সুদহারে কোনো পরিবর্তন না এনে ১০ শতাংশ বহাল থাকবে।

একইভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য সুদহারের মধ্যে স্টান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট সাড়ে ১১ শতাংশ ও স্টান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) আগের মতই সাড়ে ৭ শতাংশ একই রাখা হয়েছে। হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে মূল্যস্ফীতিও অন্তত সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।’ মোস্তাকুর রহমান গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত প্রথম মুদ্রানীতি, যেখানে সরকারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহায়ক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য তারল্য নিয়ন্ত্রণের কৌশল সাজানো হয়েছে। সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে কী পরিমাণ অর্থের সরবরাহ থাকবে, সেটির সম্ভাব্য পরিকল্পনা থাকে মুদ্রানীতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংক ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত সর্বশেষ মুদ্রানীতির ধারাও ছিল সংকোচনমূলক, তখনও নীতি সুদহার ১০ শতাংশ ছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়াতে শুরু করে। তারপরও ২০২৪ সালে মূল্যস্ফীতি দুই অংক ছড়িয়ে যায় এবং ওই বছর জুলাই মাসে রেকর্ড ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। ওই মাস থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্ধীদের আন্দোলন পরের মাসে অভ্যুত্থানের রূপ নিলে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোমাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নেওয়া হয়। তাতে মূল্যস্ফীতিও কমে আসতে শুরু করে। তবে এখনো তা ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত