ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রার্থিতা বাতিল আসলাম চৌধুরীর সংসদে যাওয়া হচ্ছে না

প্রার্থিতা বাতিল আসলাম চৌধুরীর সংসদে যাওয়া হচ্ছে না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিতলেও ‘ঋণ খেলাপি হওয়ায়’ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে বিএনপি প্রার্থী আসলাম আর চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচিত এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এখন ওই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে নতুন করে নির্বাচন হবে-আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে তা স্পষ্ট হয়নি।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করে। আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। ওই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ। এছাড়া ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে আইনজীবী কামাল উল আলম এবং যমুনা ব্যাংকের পক্ষে এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়টি না দেখে এর পরিণতি সম্পর্কে মন্তব্য করা ‘উচিত হবে না’।

‘আমার দীর্ঘদিনের আইন পেশার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, জনগণ তাদের মতামত এবং ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। যিনি প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, একটি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে জনগণের মতামতটা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়নি। আমি প্রত্যাশা করি, জনগণ তাদের মতামত আবার প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।’ তাহলে ওই আসনে উপনির্বাচন হবে কি না প্রশ্ন করলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘হতে পারে।’

নতুন করে নির্বাচন হলে আসলাম চৌধুরী আবার অংশ নিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। একজন ব্যক্তির একটা নির্দিষ্ট সময়ের অযোগ্যতা তো আর সারা জীবন থাকবে না। মূল ইস্যুটা ছিল যে, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দানের দিনে তার স্ট্যাটাস কী (ঋণ খেলাপি) ছিল। এইটা হচ্ছে মেইন ইস্যু। ‘পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি যদি সে অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠে যোগ্য হন, তাহলে তার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা থাকার কথা না।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তখন হাই কোর্টে আলাদা রিট আবেদন করে অভিযোগকারী দুই পক্ষ। গত ২৭ জানুয়ারি হাই কোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটিও খারিজ করে দেয়। ফলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়তের প্রার্থী আনোয়ার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার আপিলের আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

আদেশে বলা হয়, আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

অনিশ্চয়তা নিয়ে ভোট করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিককে ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে আসলাম চৌধুরীর শপথ নেওয়াও আটকে থাকে।

সে কারণে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম। অন্যদিকে আনোয়ার সিদ্দিক গত ৩১ মার্চ আপিল আবেদন করেন। ব্যাংক এশিয়া ও যমুনা ব্যাংকও আলাদা আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। ১৫ জুন অ্যামিকাস কিউরি বা আদালত বন্ধু হিসেবে আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীর মতামত শোনে সর্বোচ্চ আদালত। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার যে রায় দিল, তাতে আসলাম চৌধুরীর সংসদে যাওয়ার পথ এযাত্রা বন্ধ হয়ে গেল।

রায়ের পর আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আপিল মঞ্জুর করার মানে হল আসলাম চৌধুরী অযোগ্য হয়ে গেছেন এবং তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপি হিসেবে তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে, অর্থাৎ তিনি এই নির্বাচনে যোগ্য ক্যান্ডিডেট ছিলেন না।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ভুলে গিয়েছিল যে ঋণের জামিনদারেরও ঋণগ্রহীতার মত একই দায়দায়িত্ব থাকে, যা আপিল বিভাগ সিদ্ধান্তে দিয়েছে।’

কেন আসলামের প্রার্থিতা বাতিল হল, সেই ব্যাখ্যায় শিশির মনির বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। “আসলাম চৌধুরী ওই দিন ঋণখেলাপি ছিলেন বিধায় শুরু থেকেই তিনি অযোগ্য ছিলেন।”

এই রায়কে একটি ‘মাইলফলক’ ও ‘জ্বাজল্যমান উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন জামায়াতের প্রার্থীর আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের ওপর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ঋণখেলাপি যে দলেরই হোক না কেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং আরপিও অনুযায়ী তিনি নির্বাচন করতে বা নির্বাচিত সদস্য থাকার অযোগ্য। ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার বিষয়ে এটি সতর্ক করবে।’

আসলামের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর চট্টগ্রাম-৪ আসনের ক্ষেত্রে এখন কী ঘটবে জানতে চাইলে শিশির মনির বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তি অযোগ্য হলে পরের জন নির্বাচিত ঘোষিত হয়। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে এবং নির্বাচন কমিশন তা নিষ্পত্তি করবে।’ তিনি বলেন, ইলেকশন ট্রাইব্যুনাল সাধারণত গেজেট প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু এই মামলায় আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে গেজেট প্রকাশই স্থগিত ছিল। ফলে পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ‘ভালো সমাধান’। ফলাফল স্থগিত থাকা প্রসঙ্গে এ আইনজীবী বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায়ের আলোকে ফল প্রকাশিত হবে বলেই এতদিন ফল প্রকাশ স্থগিত ছিল, এখন নির্বাচন কমিশন কীভাবে গেজেট করবে তা পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত অজানা।’ এমপি না থাকায় এলাকার মানুষের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ঠিক করবে প্রার্থীর যোগ্যতা আছে কি নেই, জনগণের সুবিধা-অসুবিধা নয়। প্রকৃত অর্থে কেউ ঋণখেলাপি কি না, সেটাই সুপ্রিম কোর্টের দেখার বিষয় এবং সে অনুযায়ী কনসিকোয়েন্স বা পরিণতি হবে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ ‘সরকার বা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন নির্ধারিত হবে, কিন্তু একজন খেলাপিকে যোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।’

নতুন ভোট, নাকি নিকটতম প্রার্থীর জয় : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম-৪ আসন নিয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশের কপি পেলে তা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

তিনি বলেন, আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন, আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেব। আদালত যদি নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন তাহলে এ আসনে নতুন করে নির্বাচন হবে। ‘আর যদি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন, তাহলে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির অপেক্ষায় রয়েছে ইসি। রায়ের কপির পেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে কমিশন সভায় বসে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ভোটের নির্দেশনা এলে এ আসনে উপ নির্বাচন হবে না, বরং নতুন তফসিল দিতে হবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যোগ দিলেও মাত্র দুজন (চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪) এখনও শপথ নিতে পারেননি।

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চার মাস ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকে।

সবশেষ গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় দেন। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-২ আসনের বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানির কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে প্রার্থী ছিলেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. মছিউদদৌলা, গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, নেজামে ইসলামী পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলনের দিদারুল মাওলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও ইসলামী ফ্রন্টের সিরাজুদ্দৌলা।

১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পান। বেসরকারিভাবে জয়লাভ করলেও আদালতের আদেশে তার ফলাফল স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। ভোটে জিতলেও ‘ঋণ খেলাপি হওয়ায়’ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে বিএনপি প্রার্থী আসলাম আর চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচিত এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এখন ওই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে নতুন করে নির্বাচন হবে, আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে তা স্পষ্ট হয়নি।

ইসি মাছউদ বলেন, ‘আদালতের আদেশে নির্বাচনের কথা বললে তাহলে আমরা নতুন করে তফসিল ঘোষণা করবো। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবে।’

তিনি জানান, নির্বাচনে অযোগ্যতার বিষয়টি এ প্রার্থীর (ঋণখেলাপি হিসেবে আসলাম চৌধুরী) বহাল থাকলে নির্বাচন করতে পারবেন না; আর অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠলে অন্যদের মতো অংশ নিতে পারবেন।

চট্টগ্রাম-২ আসনের বিষয়েও আদালতের যে নির্দেশনা আসবে সেভাবে অনুসরণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আদালতের রায়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে যে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়টি না দেখে এর পরিণতি কী হবে, তা বলা উচিত হবে না।’ এই আসনে উপনির্বাচন হতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হতে পারে।’

নতুন করে নির্বাচন হলে আসলাম চৌধুরী আবারও অংশ নিতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই।

রায়ের পর আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তি অযোগ্য হলে পরের জন নির্বাচিত ঘোষিত হয়। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে এবং নির্বাচন কমিশন তা নিষ্পত্তি করবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসলাম চৌধুরী এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আনোয়ার সিদ্দিকী নির্বাচন করেছিলেন। গেল বছর ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমার শেষ দিন ছিল।

আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে প্রথমে গত ৩ জানুয়রি রিটার্নিং অফিসারের কাছে বাছাইয়ে আপত্তি জানালেও মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এরপর নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হলে সেবারও কমিশন মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে এই যুক্তিতে যে, তিনি মূল ঋণগ্রহীতা নন, বরং ঋণের জামিনদার।

১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির জন্য আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ প্রার্থীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা (ঋণটা) দিয়ে দিয়েন। টাকাটা না দিলে কিন্তু জনরোষ তৈরি হবে। মানুষ হিসেবে এটা আপনাকে বললাম।’

এরপর গত ২৭ জানুয়ারি ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে রিট আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট দুটি রিট আবেদনই খারিজ করে। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ওই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশে জানায়, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হলে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ক্ষেত্রে ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। এই আদেশের ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও তার ফলাফল স্থগিত ছিল। লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর গত ৩১ মার্চ আনোয়ার সিদ্দিকী পৃথক আপিল করেন এবং ২৮ এপ্রিল চেম্বার আদালত তা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি এবং যমুনা ব্যাংক পিএলসিও পৃথক আবেদন করে।

গত ১০ জুন আপিল শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয় আপিল বিভাগ। গত ১৫ জুন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ৩০ জুন ধার্য করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত