ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরবে ইউএনএফপিএ

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরবে ইউএনএফপিএ

বাংলাদেশের জনমিতিক সহনশীলতা, নারীর ক্ষমতায়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। একই সঙ্গে জনমিতিক সহনশীলতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, সুস্থ বার্ধক্য ও জনসংখ্যা তথ্যব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে ইউএনএফপিএ সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডিয়েনে কেইতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে ইউএনএফপিএর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, নারীকে কেন্দ্র করে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য জনমিতিক তথ্যব্যবস্থা এবং শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ইউএনএফপিএর আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে তারা মিয়ানমারে ফিরে মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাস, অধিকার ভোগ এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ পায়।

ড. তিতুমীর আরও বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের জন্য জনমিতিক সুফল অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘায়ুজনিত সম্ভাবনাকেও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ, বিশেষ করে মা, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহজেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। তিনি জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, ইউএনএফপিএর পরবর্তী কান্ট্রি প্রোগ্রামকে সরকারের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক সেরা অনুশীলনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েনে কেইতা বাংলাদেশের সঙ্গে জনমিতিক সহনশীলতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, সুস্থ বার্ধক্য, জনসংখ্যা তথ্যব্যবস্থা এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে দৃঢ় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয় মালিকানাবোধ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্য তুলে ধরতে ইউএনএফপিএ ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত