ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আবাসিক ও শিল্পে গ্যাস সংকট

চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক, শিল্প ও সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ ব্যাহত, শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমেছে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এসব এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে অনেক বাসায় চুলা জ্বালানোই সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও সেই চাপ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এতে মাসিক খরচও বেড়ে গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আগে যেখানে আধা ঘণ্টায় রান্না শেষ হতো, এখন একই কাজ করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। সকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কিংবা কর্মজীবী সদস্যদের জন্য সময়মতো খাবার প্রস্তুত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে। গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে শিল্প খাতেও। গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন কারখানায় প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় বয়লার ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, সময়মতো ক্রেতার কাছে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক স্টেশনে পর্যাপ্ত সরবরাহ মিলছে না। ফলে স্টেশনগুলোর সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মঘণ্টা শেষ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে, গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো হতে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। অন্যদিকে, দেশের চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত