ঢাকা রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের প্রকল্প হাতে নিয়েছে

বললেন তথ্যমন্ত্রী
কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের প্রকল্প হাতে নিয়েছে

অনেকের কাছে সংসদের চাইতে রাজপথ বেশি পছন্দের বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, “আমরা খেয়াল করেছি, পার্লামেন্টের চাইতে রাজপথকেই অনেকের বেশি পছন্দ। আমরা খেয়াল করেছি, পার্লামেন্টের ছোটখাট নাটককে রাজপথে এনে আরো বেশি ওটাকে বাষ্প দিয়ে দেন—সোশাল মিডিয়াতে নানান রকম যুদ্ধে লিপ্ত করার একটা প্রকল্প কেউ কেউ হাতে নিয়েছে।” গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “এ কথা মনে করার কোনো কারণ নাই তারেক রহমানের সরকার এই ষড়যন্ত্রের গভীরতা বোঝে না। একথা ঠিক-আমরা বুঝি বলেই কিন্তু আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করি, আমরা বুঝি বলেই কিন্তু আমরা অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি, আমরা বুঝি বলেই কিন্তু আমাদেরকে গঠনমূলক সমাধানের কথা চিন্তা করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র প্রতিক্রিয়াধর্মী উত্তেজনাকর অশ্লীল বক্তব্য এবং সোশাল মিডিয়াতে এ ধরনের একটা দূষিত পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের দায়িত্বকে নিয়োজিত করতে পারি না। ‘বিশেষ করে জনগণ যখন আমাদেরকে রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব দিয়েছে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতার রিলে রেসের দণ্ডটি দিয়েছে, তখন আমাদেরকে এ দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে।’ জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমরা বিএনপি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তিন দিনের এ প্রদর্শনী চলবে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত। এ আয়োজন উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

‘প্রয়োজনে আঙুল বাঁকা করতে হবে’ : দেশ গড়ার কাজে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ উৎপাতের পর্ব শেষ; এখন আমাদের দেশ গড়ার পালা। যারা তখনও চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করেছিল অথবা কেবলমাত্র কৈশোরের বিভ্রান্তিতে ছিল—তারা এখন দেশ গড়ার কাজে, গঠনমূলক কাজে তারা মন দিতে চায় না। আন্দোলন করা কারো কারো জন্য পেশা হতে পারে। কিন্তু আমাদের জন্য তা কেবলমাত্রই ভোটাধিকার গণতান্ত্রিক চেতনা এবং একটি স্বাধীন স্বনির্ভর সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ। সেই আন্দোলনকে আমরা সমাপ্ত করেছি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ হল দেশ গড়ার দায়িত্ব। যারা সমস্যা তৈরি করবেন, আমরা তাদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু আঙ্গুল যদি বাঁকা করতে হয় রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে সরকারকে তো অবশ্যই তা করতে হবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করব শান্তিপূর্ণভাবে এই বিষয়গুলিকে সমাধান করতে।’

ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গ : বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান আজ পর্যন্ত কিন্তু কোনো আত্মকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা আন্দোলন সম্পর্কে দেন নাই। এই কৃতিত্ব জনগণের। বরঞ্চ তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে যখন আন্দোলনের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন হাজার মাইল দূর থেকে, তিনি ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে আন্দোলনকে বিভিন্ন পর্বে প্রবেশ করেছেন। শুরুতেই তিনি বলেছেন, ‘দেশে যখন সংগ্রাম আন্দোলন চলে তখন তরুণদেরকে, দেশের সংগ্রামী মানুষদেরকে, আমাদেরকে সাহস দেওয়ার জন্য স্লোগান তুলেছিলেন ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ’।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এই স্লোগানকে সম্বল করে যখন রাজপথের চিতিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন আবার জাগ্রত হয়েছে, সেই আন্দোলনকে আবার একটি পর্যায় নিয়ে আমাদের নেতা আমাদেরকে আরো উৎসাহ দিয়েছেন—‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’। “আন্দোলন আরো বেগবান হয়েছে এবং অবশেষে ৫ অগাস্ট রাজপথেই ফায়সালা হয়েছে এবং রাজপথে ফায়সালা হওয়ার দিন প্রমাণ হয়েছে, ‘বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের দিন শেষ’।” জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমরা সেদিন জাতীয় নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করলামৃ ৫ অগাস্টের পর থেকে জাতীয় নির্বাচনকে নিয়ে নানান চক্রান্ত ষড়যন্ত্র। আবার সেই একই দৃশ্য জনগণের ভোটের ক্ষমতা জনগণকে না দেয়ার জন্য নানান মহলের নানান চক্রান্ত। “খুব দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করেছিলামৃরাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের বিরুদ্ধে চলে গিয়ে কথা বলেছিলেন।” আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ভিআইপি মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভাস্কর নাজম, ফটো জার্মালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত