
সারাক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করায় চোখে চাপ ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অনলাইনে সিনেমা দেখা, খেলা বা পড়াশোনা- সবকিছুর জন্যই মানুষ দীর্ঘ সময় মুঠোফোন ব্যবহার করেন, যার ফলে চোখের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এবং ফোনের পর্দার সেটিংসে কয়েকটি ছোট পরিবর্তন আনলে ফোন ব্যবহার অনেক বেশি আরামদায়ক হবে এবং চোখও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চোখ সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু কার্যকরী পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। বর্তমানে বেশিরভাগ অ্যানড্রয়েড ফোন এবং আইফোনে নীল আলো পরিশ্রুত করার বা ব্লু লাইট ফিল্টার সুবিধা রয়েছে, যা সন্ধ্যা বা রাতের বেলা পর্দা থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো কমিয়ে চোখকে আরাম দেয় এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি অন্ধকার মোড বা ডার্ক মোড চালু করলে কম আলোয় গাঢ় পটভূমির ওপর হালকা রঙের লেখা ফুটে ওঠে, ফলে পর্দার অতিরিক্ত ঝলকানি অনেকটাই কমে যায়।
পর্দার উজ্জ্বলতা বা ব্রাইটনেস সবসময় বেশি কিংবা খুব কম না রেখে স্বয়ংক্রিয় উজ্জ্বলতা বা অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস চালু রাখা উচিত। এর ফলে পারিপার্শ্বিক আলোর পরিবেশ অনুযায়ী মুঠোফোন নিজেই পর্দার উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করে নেয়, যা চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়া রোধ করে। এ ছাড়া মুঠোফোনে খুব ছোট অক্ষর পড়তে গেলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তাই লেখার আকার বা ফন্ট সাইজ কিছুটা বাড়িয়ে নিলে পড়া অনেক সহজ হয় এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পরেও চোখের ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
মুঠোফোনের পর্দা কতক্ষণ সচল থাকবে তা নিয়ন্ত্রণ করাও চোখের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। পর্দার স্থায়িত্বকাল বা স্ক্রিন টাইমআউট সময় কমিয়ে রাখলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে মুঠোফোনের পর্দা দীর্ঘক্ষণ আলো ছড়ায় না। এতে একদিকে যেমন পর্দার সামনে অতিরিক্ত সময় কাটানো কমে যায়, তেমনই মুঠোফোনের ব্যাটারির চার্জও সাশ্রয় হয়।