ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পরিকল্পিত শিল্পায়নে নতুন অধ্যায়

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো পরিবেশবান্ধব হচ্ছে

* ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ইপিজেড সবুজায়ন * অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অব্যবহৃত সম্পদের বহুমুখী ব্যবহার * গাইডলাইন ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো পরিবেশবান্ধব হচ্ছে

শিল্পায়নের সুফল সুসংহত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে শিল্পায়নের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের ১০ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর পরিধি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ইপিজেড সবুজায়ন : বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) গণমাধ্যমকে সভার নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের প্রতিটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির প্রত্যক্ষ অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যেন প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না হয়, বরং শিল্পাঞ্চলগুলো পরিবেশবান্ধব ও সবুজ হয়ে ওঠে- সে লক্ষ্যেই এ বিশাল উদ্যোগ।

উপ-প্রেস সচিব বলেন, ‘শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি পরিবেশের সার্বিক ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল হিসেবে গড়ে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অব্যবহৃত সম্পদের বহুমুখী ব্যবহার : প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। আগের সিদ্ধান্তগুলো কতটুকু দৃশ্যমান হয়েছে এবং কোথায় কোথায় আরও গতি আনা প্রয়োজন, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন উপস্থিত আমলারা ও মন্ত্রীরা। এর পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমানে পরিচালিত বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সার্বিক মূল্যায়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। সভার অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

দেশের পুরোনো ও বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোর জমি ও অবকাঠামোকে নতুন করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী করিম জুট মিলস এবং লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের বিশাল জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামো কীভাবে লাভজনক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে সভায় গভীর পর্যালোচনা করা হয়। সরকার মনে করছে, এই অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদকে আধুনিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরিত করা গেলে খুব দ্রুত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সচল করা সম্ভব হবে। ফলে কম খরচে ও দ্রুত সময়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে, স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে।

গাইডলাইন ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন : দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বাড়াতে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আবেদন প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণের জোর তাগিদ দেওয়া হয়। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নতুন সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা হয়। সরকার চায় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি কোনোভাবেই যেন পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি না হয় বা কৃষিজমি ও নদী-নালার অপব্যবহার না ঘটে।

পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত শিল্পায়নে নতুন অধ্যায় : শিল্পবিশেষজ্ঞ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে শুধু ঐতিহ্যবাহী পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে না দেখে ‘গ্রীন ও সাসটেইনেবল জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার এই মানসিকতা বৈশ্বিক বাণিজ্য অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে। বর্তমান বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বড় বড় বহুজাতিক বিনিয়োগকারীরা ‘গ্রীন ম্যানুফ্যাকচারিং’ বা পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করছেন।

সরকারের এই সময়োপযোগী ও বৈপ্লবিক সমন্বয়- যেমন একদিকে বৃক্ষরোপণ, অন্যদিকে বন্ধ কল-কারখানার জমি পুনর্ব্যবহার এবং নতুন সবুজ নীতিমালা বাস্তবায়ন- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এক নতুন স্বর্ণালী যুগের সূচনা করবে। পরিবেশ রক্ষা ও শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই প্রয়াস দেশকে উচ্চণ্ডমধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত করার পথকে আরও মসৃণ ও স্থায়ী করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অর্থনৈতিক ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশবান্ধব শিল্পঞ্চল গড়তে করণীয় : বিশ্বজুড়ে পরিবেশ নিয়ে মনোযোগ বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে, জুতা শিল্পেও এর গুরুত্ব বেড়েছে। এই খাতে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন চামড়া, প্লাস্টিক ও নানা রাসায়নিক উপকরণ পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে, এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিকল্প উপকরণ ও পদ্ধতি গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে- পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা উপকরণ, অর্গানিক তুলা, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক ইত্যাদি। এর মাধ্যমে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে তা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করছে। এমনকি, থ্রিডি প্রিন্টিং বা ল্যাব থেকে তৈরিকৃত চামড়ার মতো নতুন প্রযুক্তি এই খাতকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তুলছে। জুতা শিল্প খাতে এ পরিবর্তন ক্রেতাদেরও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। আজকের বিশ্বে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম মৌলিক উপাদান হয়ে উঠেছে। শুধু মুনাফা অর্জন করাই নয়, বরং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা এখনকার সময়ের প্রয়োজনীয়তা। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি, যেমন- পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার, জ্বালানি অপচয় রোধ করা ও দূষণ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনতে সহায়তা করে না; একই সঙ্গে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের গ্রহণযোগ্যতাকেও বৃদ্ধি করে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে ব্যবসায়ের টেকসই মডেল নিশ্চিত করা তাই একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সাফল্যকেই নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল করে। এমন উদ্যোগগুলো একদিকে যেমন ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও লাভজনক করে তোলে, অন্যদিকে তেমনি ভোক্তা ও সমাজের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই উচিত পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ করা।

তৈরি পোশাক খাতে গ্রিন ফ্যাক্টরি নির্মাণসহ টেকসই নানা উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে, আরএমজি ছাড়াও চামড়া, সিরামিকস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ইলেকট্রনিকসের মতো খাতগুলোতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জ্বালানি-সাশ্রয়ী টেকসই সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববাজারে দায়িত্বশীল উৎপাদনের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ সময় পরিবেশবান্ধব কারখানা তৈরি ও সামগ্রিকভাবে সব খাতে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেকে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে। পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়িক খাত গড়ে তুলতে হলে কৌশলগত নীতিমালা সংস্কার এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগ অপরিহার্য। বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রিন ফাইন্যান্সিং সুবিধার অভাব, টেকনিক্যাল দক্ষতার সীমাবদ্ধতা, রিসাইক্লিং ইকোসিস্টেমের যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকা এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালার সংস্কার। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের জন্য কর প্রণোদনা দেওয়া, গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গড়ে তোলা, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে খাতভিত্তিক সহযোগিতা উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত নিয়মণ্ডকানুনের মান নির্ধারণ ও কঠোর প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এখন বিশ্বজুড়েই পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্প খাতে পানির ব্যবহার কমিয়ে আনা বা দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে, ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই প্রযুক্তি কারখানাগুলোতে পানির ব্যবহার কমাতে এবং প্রক্রিয়াজাত বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে সহায়তা করে। ফলে, কারখানা থেকে দূষণ কমে আসে, পানিসম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে কাগজবিহীন পদ্ধতির দিকে সারাবিশ্বই ঝুঁকে পড়েছে। সব জায়গাতেই এখন ই-বিল ব্যবহারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের সুযোগই তৈরি হচ্ছে না; বরং সময়, খরচ ও অপচয়ও কমে আসছে। বলা চলে, এই দুই উদ্যোগ একযোগে আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ভূমিকা রাখে। আমাদের চারপাশের পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে ও আগামী প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষণ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এ উদ্যোগ দুটি।

শিল্প খাতে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বিশ্বজুড়েই খুব দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। তবে, কারও একার পক্ষেই এই পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই, শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন বলা চলে, এই খাতে উদ্ভাবন বাড়াতে ও টেকসই চর্চায় দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। আর এটা সম্ভব হলেই শিল্প ও উৎপাদন খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত উপকরণ ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী পদ্ধতি গ্রহণ করা সহজ হবে। বলা চলে প্রযুক্তি, ব্যবসা ও গবেষণার মধ্যে সহযোগিতা, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ফ্যাশন ও জুতাসহ উৎপাদনমুখী সব খাতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব চর্চা নিশ্চিত করতে হলে সরকারের সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের প্রগতিশীল পরিবেশবাদী নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব খাতকে সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল করে তোলা যেতে পারে। টেকসই পণ্য উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে সরকারকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও কার্যক্রমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে করছাড় দিতে হবে। এভাবে, সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে একটি পরিবেশবান্ধব ও আগামী প্রজন্মের উপযোগী শিল্প খাত গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত