
গ্যাস সংকট মোকাবেলায় আট কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক পরদিনই আরও এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনলাইন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি পর্যায়ে বা জিটুজি পদ্ধতিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড কোম্পানি থেকে এ জ্বালানি কেনা হবে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আট কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) নীতিগত অনুমোদন লাগে। গণখাতে ক্রয় বিধির (পিপিআর) ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়। সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ দুই কার্গো করে এলএনজি কেনার চারটি প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে দুই কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন মেলে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হলে গ্যাস সংকট আরও বেড়ে যায়। ২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। সমুদ্রপথে আনা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাতীয় গ্রিডে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে।
আগুনে একটি টার্মিনালের বিদ্যুৎ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্য বহনকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুই সপ্তাহ সেখানে কাজ বন্ধ রাখা হয়। প্রয়োজনীয় মেরামত সেরে টার্মিনালের একটি ইউনিটের বয়লার চালু করার পর গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে এক্সিলারেট এনার্জির ওই টার্মিনাল থেকে সীমিত পরিমাণে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।