ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তারেক রহমানকে বরণের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

তারেক রহমানকে বরণের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণের অপেক্ষায় রয়েছেন চট্টগ্রামবাসী। এরইমধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

আজ রোববার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু-তে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখোমুখি হবেন তিনি। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের সুপার ফাইভ খ্যাত সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়েই এই সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে মহানগর ও জেলার তিন সাংগঠনিক ইউনিটের (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা) পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সভায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতারা সরাসরি দলীয় প্রধানের সামনে নিজেদের মতামত, পরামর্শ ও স্থানীয় রাজনীতির বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। আর ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে এখন সরব চট্টগ্রামের তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল শনিবার সকালে এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তৃণমূলের নেতৃত্বে সবসময় আস্থা রেখেছেন। উনি তৃণমূলের মুকুটহীন সম্রাট। তৃণমূলের রাজনীতি দিয়েই পুরো বাংলাদেশে উনার যে জনপ্রিয়তা, উনার যে রাজনৈতিক দর্শন-এটা ছড়িয়েছেন। এই জন্যই উনি সবসময় তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে আসছেন।’

মীর হেলাল বলেন, ‘তিনি যখন দেশের বাইরে ছিলেন, তখনও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এখন যেহেতু উনি সশরীরে আছেন এবং চট্টগ্রাম উনাকে সর্বোচ্চ ভালো নির্বাচনের একটা ফিডব্যাক দিয়েছে তাই চট্টগ্রামের তিন জেলা (মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপি, ১১টা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।’

সাংগঠনিক সভায় নেতাকর্মীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। আমি মনে করি এটা পজিটিভ। এটাই আসলে তারেক রহমান সাহেবের চিরাচরিত রাজনৈতিক চর্চা এবং এটাই উনার তৃণমূলকে শক্তিশালী করার রাজনৈতিক দর্শন। এটা উনি আগেও করেছেন, এখনও এটা কন্টিনিউ করছেন বললেন মীর হেলাল।

তৃণমূলের কর্মীরা দলের প্রধানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন, এতে উচ্ছ্বাস কেমন দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ‘রোববার চট্টগ্রামে দলীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির। যেটি আবার দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের প্রথম সাংগঠনিক সভা। তাই দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ এই সফর ও সভাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। আমার মনে হয় দু‘দিন ধরে তারা ঘুমোচ্ছে না। একটা সাজ সাজ রব পড়ে গেছে পুরা চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, মহানগর সব জায়গায়।’

তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়ন করার এই উদ্যোগ পুরো দলকে পুনরুজ্জীবিত ও নতুন গতিতে চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও।

তাদের মতে, সাংগঠনিক সভায় তিন সাংগঠনিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। অবশ্য উত্তর জেলায় সাংগঠনিক কমিটি নেই। উত্তরের আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভার নেতারা অংশ নেবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম আসেন। পরদিন পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে ২০০৫ সালে দুইবার চট্টগ্রাম এসেছেন তারেক রহমান। ওই বছরের ৬ মে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এর প্রায় তিন মাস পর একই বছরের ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত জানুয়ারিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। গতবার সাংগঠনিক সভা করেননি, এবার করবেন।’

সাংগঠনিক সভাটি দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভা হবে, যেখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। সাধারণত চেয়ারপার্সন ঢাকায় সেসব সাংগঠনিক সভা করেন সেখানে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার ফাইভ অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের সাংগঠনিক সভাগুলোর ভেন্যু থাকে রাজধানী ঢাকা। এসব সভায় জেলা বা মহানগরের সুপার ফাইভণ্ডসভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সমাপদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে এবার সেই চর্চায় ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। এই সাংগঠনিক সভা দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। আজ ৯ আগস্ট রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ি যাবেন। সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে হেফাজতে আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এরপর সড়কপথে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছে তিনি মরহুম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন। বিকালে হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর আসবেন চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু-তে।

র‌্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভা প্রসঙ্গে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘বিভিন্ন বিভাগে প্রধানমন্ত্রী যে সফর করেন সেখানে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বসেন, সাংগঠনিক সভা করেন। ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরকালেও তিনি সাংগঠনিক সভা করবেন।’

হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় এ সভায় বিএনপির ৬ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। যার মধ্যে মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকবে। মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতারাও থাকবেন। উত্তর জেলায় কমিটি নেই, তাই উত্তরের উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটি আছে তার সিনিয়র নেতারা থাকবে। এছাড়া মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক অংশ নেবেন বলে জানান মাহবুবের রহমান শামীম।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের জেলা ও উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে প্রশাসন ও দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুুষ্ঠানে যোগ দেবেন, সেখানে কোনো জনসভা হবে না। এরপরও প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য প্রচুর লোক জমায়েত হবে। দলের নেতাকর্মীর বাইরেও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে উজ্জীবিত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা।

লায়ন হেলাল বলেন, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক নির্দেশনা দেবেন। দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম চট্টগ্রামের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুব কাছে বসে তার নির্দেশনা শুনার সুযোগ পাবেন। এজন্য নেতাকর্মীরা খুব উচ্ছ্বসিত।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। রোববার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সড়কপথে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সেখানে নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

তিনি বলেন, ‘একই ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়ও। সেখানে পাইন্দং সিএনবি মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ শেষ হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। একইভাবে হাটহাজারীতেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’

একইভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হোটেল রেডিসন ব্লু-তেও। এক কথায় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল ফোর্স এসএসএফ, ডিজিএফআই, সেনা, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত