ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চাকরি পেলেন জুলাইয়ে শহিদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্য

চাকরি পেলেন জুলাইয়ে শহিদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও গুরুতর আহত ১০ পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নিয়োগপত্র পাওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্যরা হলেন- শহিদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহিদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহিদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহিদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহিদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহিদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহিদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহিদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী। ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উপহার : একইদিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দুই যোদ্ধার আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার লক্ষ্যে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা, পরিবার ও জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিরপুর বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখ। তিনি সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মিরপুর-১০ এলাকায় অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে ৩৬টি গুলির স্পিøনটার বিদ্ধ হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, ‘অবশ্যই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।’

কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মো. গফফারকে দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা উপহার দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেছেন এবং নিজের রিকশায় আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি জানান, উপহার পাওয়া রিকশা ঢাকাতেই চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন। আরেকটি রিকশা ভাড়া দেবেন। এছাড়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে উপহার পাওয়া বাহনগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে তা প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তারা কীভাবে নিরাপদে এসব বাহন নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছবেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে উপস্থিত আপনারা কেউ জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, আবার কারও আপনজন এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের নিজেদের বা আপনজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের মানুষ একটি মুক্ত পরিবেশে থাকতে পারছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহিদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরি নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত