
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের ধসের চিত্র উঠে এসেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা ২০০৭ সালের পর গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১ বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। কড়া মূল্যায়ন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের বড়সংখ্যায় অকৃতকার্য হওয়াকে ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা। গতকাল সোমবার সকালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। মেধার সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ মাত্র ১ বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। এসব বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফলেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ৯টি সাধারণ বোর্ডে অংশ নেওয়া ৬ লাখ ৬২ হাজার ৬৬৩ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৮১৪ জন। ফলে ছেলেদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৬ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৭৯৬ জন। মেয়েদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীতে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে- ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন; রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন; কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন; যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন; চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন; বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন; সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন; দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এবার ৪৭ হাজার ৩০৪ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ৭০৫ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫- দুই সূচকেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ফল ভালো হয়েছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল আরও খারাপ হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় এবার ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন শিক্ষার্থী।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ২১৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন। ফেল করেছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৪৯৪ জন। সব মিলিয়ে কারিগরি বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।
গত দেড় দশকের এসএসসি ও সমমানের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এবারের ফলের অবনতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর তা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে ২০১৪ সালে ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা ছিল ওই সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ হার। পরে মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পরীক্ষার ধরনে বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে পাসের হারে ওঠানামা দেখা যায়।
২০১৭ সালে খাতা মূল্যায়নে নতুন মানদণ্ড প্রয়োগের পর পাসের হার কমে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে আসে। এরপর করোনাকালে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ২০২১ সালে বিষয় ম্যাপিং ও বিশেষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করায় পাসের হার বেড়ে ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা এ যাবৎকালের অন্যতম সর্বোচ্চ হার।
করোনা-পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক পরীক্ষাপদ্ধতি ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা ফিরলে পাসের হার আবার কমতে শুরু করে। গত বছর ২০২৫ সালে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা আরও কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে। ফলে ২০০৭ সালের পর গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এবারের ফল বিপর্যয়ে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অকৃতকার্যতার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এ দুটি মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া এবং খাতা মূল্যায়নে তুলনামূলক কঠোরতা এবারের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।
ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক ফলাফলেও। এবার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬৯টিতে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৬৮টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এমন শূন্য পাস বা জিরো পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২টিতে। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়ে দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এবারের ফলাফলকে শুধু পাসের হার কমে যাওয়ার দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। কোন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়ে পড়েছে এবং কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে ফলাফল খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পাঠদানের মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করার কারণে এবার ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। তবে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন-ঘাটতিও সামনে এসেছে। তাই ফল ভালো দেখানোর চেয়ে শিক্ষার্থীরা যেন বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রকাশিত ফলে কোনো শিক্ষার্থী সংক্ষুব্ধ হলে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ এ এবারও এগিয়ে মেয়েরা : এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবারও পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬.৬৮ শতাংশ। আর ছাত্রদের পাসের পার ৫৭.৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এগিয়ে ছাত্রীরা। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। এবার পরীক্ষায় পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী এবং ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন ছাত্র। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ ফল ঘোষণা করেন।
পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড, পিছিয়ে ময়মনসিংহ : চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ। এই বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পাসের হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বোর্ডে। এই বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতকাল সোমবার সকালে প্রকাশিত ফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাসের হারে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর বোর্ড। এরপর রয়েছে কুমিল্লা (৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ) ও রাজশাহী বোর্ড (৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। এ ছাড়া বরিশালে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৬ শিক্ষার্থী। শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে (এসএসসি) পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে (দাখিল) ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (ভোকেশনাল) পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বছর মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮% : চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর মাধ্যমিকে পাসের হারে আরও অবনমন ঘটে হয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গতবারের চেয়ে ১২.৫৯ শতাংশ পয়েন্ট কম। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও গতবারের চেয়ে কমেছে। এবছর ৯ হাজার ৩৯৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে; যা গতবার ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। এবছর মোট এক লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১, ব্যবসায় শিক্ষায় ৬০ দশমিক ১২ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯শতাংশ।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ কমলেও বেড়েছে পাসের হার : চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পাসের হার বেড়েছে; তবে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন। “এবার এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২। প্রকাশিত ফলাফলে এ বছর পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও কমেছে জিপিএ-৫।”
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, এ বছর বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় । এর মধ্যে পাস করেছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। তাদের মধ্যে ৩৭ হাজার ২০৩ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ১৯৬ জন মেয়ে।
মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ; যা ছেলেদের ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশের তুলনায় বেশি। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে এবং ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছেলে। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ ৮২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৬ এবং মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৫০ দশমিক ৬১ শতাংশ; এর মধ্যে ছেলে ৪৫ দশমিক ৫ এবং মেয়ে ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪০ শতাংশ; এ বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৪৪ এবং মেয়েদের ৬৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শতভাগ পাস করেছে ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২২টি। সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তারসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল বোর্ডে এ বছরও পাসের হার ও জিপিএ ফাইভে এগিয়ে মেয়েরা : প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ ফাইভ উভয় ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। তবে এ বছর পাশের হার বাড়লেও কমেছে জেপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ৫টি বিদ্যালয় থেকে ?একজনও পাশ করতে পারেনি। এসএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৫১৫টি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮০ হাজার ৪৫৮ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছে ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ২৮ হাজার ৬০০ জন এবং ছাত্র ১৯ হাজার ৯৫৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৮৫ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ১৯৩ জন ছাত্র।
এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ২৩ হাজার ৮৬৭ জন। পাশ করেছে ২০ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে ছাত্রী হচ্ছে ১১ হাজার ১৩৯ জন এবং ছাত্র ৮ হাজার ৯০৭ জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ৪৮ হাজার ৪৫০ জন। পাস করেছে ২৩ হাজার ৯০৭ জন। এর মধ্যে ছাত্রী হচ্ছে ১৫ হাজার ৪৪৩ জন এবং ছাত্র ৮ হাজার ৪৬৪ জন। ব্যবসা শিক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮ হাজার ১৪১ জন। পাস করেছে ৮ হাজার ৬০২ জন। এর মধ্যে ছাত্রী হচ্ছে ২ হাজার ১৮ এবং ছাত্র ২ হাজার ৫৮৪ জন।
সিলেটে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন : এসএসসি ও সমামানের পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬জন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার আরও কমেছে। গেল বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে পাসের হার কমলেও এবার বেড়েছে জিপিএ-৫। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪জন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন।
এ ববছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে ও ৩২ হাজার ৬৮জন মেয়ে।
যশোর বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ, এগিয়ে মেয়েরা : যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বছর এ বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় সারা দেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন বোর্ডের সচিব (প্রেষণে) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন। তিনি ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৬৯ হাজার ৮৫ জন এবং ছাত্রী ৭১ হাজার ৯৭৯ জন। ফলাফলে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছাত্রীরা তুলনামূলক ভালো করেছে। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের বড় অংশও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে মানবিক বিভাগের ফলাফল তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক। এ বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৮৫ হাজার ২৩৮ জন হলেও পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে, কমেছে জিপিএ-৫ : দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গত ৭ বছরের মধ্যে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সর্বনিম্ন পাসের হার হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ১ বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। শুধু পাসের হার নয়, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডের গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। অর্থাৎ ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। গত বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ জন। সে হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ২২১ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ৭ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে হয় ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশে। এবার আরও কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। আর গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৪৮৭ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৫২ জন। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৬২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪২৩ জন।
সাত বছরে সর্বনিম্ন, রাজশাহী বোর্ডে এসএসসির ফলে বড় ধস : সাত বছরের সর্বনিম্ন এসএসসির ফলাফল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে। ২০২০ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালে নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে। শতাংশের হিসাবে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে প্রায় ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের পাসের হার শুধু গত বছরের তুলনায়ই কমেনি, বরং এই সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেই কমেছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
পাসের হারে ওঠানামা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় পতন : বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। করোনাকালীন ২০২১ সালে এটি বেড়ে সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়। এরপর ২০২২ সালে নেমে আসে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশে। ২০২৩ সালে সামান্য বেড়ে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে আরও বেড়ে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে বড় ধাক্কায় তা নেমে আসে ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশে। আর সবশেষ ২০২৬ সালে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ পাসের হার প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে কমেনি; মাঝখানে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে ২০২০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সাত বছরের সামগ্রিক হিসাবে প্রবণতাটি স্পষ্টতই নিম্নমুখী।
৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, শতভাগ পাস ৬৬৯টিতে : এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থীও পাস করেননি। আর ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। চলতি বছর মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে ফল প্রকাশ করে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি; শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি। সে হিসেবে শতভাগ পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবার কমেছে ৩১৫টি, সব পরীক্ষার্থী ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি। ২০২৪ সালে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। আর ২ হাজার ৯৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। স্কুলের গণ্ডি পেরোনো এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করে। ২০০৭ সালের পর চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার সবচেয়ে কম। ওই বছর ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। চলতি বছরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। গত ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়। দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছে।