ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শুক্রবারের বিশেষ খবর

একটি শিশু দুটি বৃক্ষ, জন্মের আনন্দে সবুজের বার্তা

একটি শিশু দুটি বৃক্ষ, জন্মের আনন্দে সবুজের বার্তা

নবজাতকের জন্ম মানেই একটি পরিবারের জন্য আনন্দের উপলক্ষ। আর সেই আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’-এর একদল স্বপ্নবাজ তরুণ। কোনো পরিবারে শিশু জন্মের খবর পেলেই সেখানে ছুটে যান এ সংগঠনের সদস্যরা। সঙ্গে থাকে দুটি গাছের চারা- একটি ফলদ ও একটি বনজ। নবজাতকের নামে বাড়ির আঙিনায় নিজেরাই গাছ দুটি রোপণ করে দিয়ে আসেন তারা। ‘একটি শিশু দুটি বৃক্ষ, লাগাব বৃক্ষ তাড়াব দুঃখ’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৩ সালে শুরু হয় তাদের ব্যতিক্রমী এ ‘নবজাতক বৃক্ষ’ কর্মসূচি। এরইমধ্যে ১৩২২ জন নবজাতকের বিপরীতে ২৬৪৪টি ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগিয়েছেন তারা। শুধু গাছ লাগানোতেই সীমাবদ্ধ নেই তাদের উদ্যোগ; এসব গাছের সঙ্গে শিশুর বেড়ে ওঠার একটি আবেগের সম্পর্কও তৈরি করতে চান তারা।

মূলত ফেসবুকভিত্তিক এ সংগঠন ২০২১ সাল থেকে সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সালে সংগঠনের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তারা প্রচলিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে দুটি করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি অসহায় মানুষের আর্থিক সহায়তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ, ইমামণ্ডমুয়াজ্জিনদের সহায়তা এবং রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সংগঠনটি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এহসানুল হক বলেন, বিশ্বব্যাপী শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ও জলবায়ু হুমকির মুখে পড়ছে। প্রতিটি প্রাণী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৃক্ষ ও উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতেই এ উদ্যোগ। এ ছাড়া শিশু বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গাছ দুটিও বেড়ে উঠবে। একসময় গাছ থেকে পরিবারটি ফল পাবে, আবার বনজ গাছ বিক্রি করেও অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর সঙ্গে গাছ দুটির একটি আবেগের সম্পর্ক তৈরি হবে। স্বেচ্ছাসেবী সৈয়দা মাহফুজা ঝুমু বলেন, নবজাতককে পৃথিবীতে স্বাগত জানানো হচ্ছে দুটি গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে। এটি সত্যিই অন্য রকম একটি উদ্যোগ। এর চেয়ে সুন্দর বার্তা আর কী হতে পারে। আরেক স্বেচ্ছাসেবী আরিফুল হক বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সময় দিই। প্রকৃতিতে গাছের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই নবজাতকের জন্মের পর উপহার হিসেবে দুটি করে গাছ নিয়ে যাচ্ছি। এ কাজ আমাদের আনন্দ দেয় এবং একই সঙ্গে সমাজের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা তৈরি করছে।

সম্প্রতি ঈশ্বরগঞ্জের দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জ্যোতি রঞ্জন সরকারের বাড়িতে নবজাতকের নামে দুটি গাছের চারা রোপণ করে দেন সংগঠনের সদস্যরা। গাছ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত জ্যোতি রঞ্জন সরকার বলেন, এ দুটি গাছের সঙ্গে আমার সন্তানের একটি সম্পর্ক তৈরি হলো। সন্তানকে যেভাবে আদর-যত্ন করে বড় করব, গাছ দুটিকেও সেভাবেই বড় করব। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, একজন শিশুর জন্মের পর দুটি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমন উদ্যোগ দেখে আরও তরুণ বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হবেন। এ ছাড়া জন্মের আনন্দকে বৃক্ষরোপণের সঙ্গে যুক্ত করে তরুণেরা যে বার্তা দিচ্ছেন, তা শুধু একটি পরিবারের আঙিনাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একটি শিশুর সঙ্গে দুটি গাছের বেড়ে ওঠার এ গল্প ছড়িয়ে পড়ছে পরিবার থেকে পরিবারে। আর সেই গল্পের মধ্য দিয়েই তৈরি হচ্ছে সবুজ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত