ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভুয়া সিমের পথ বন্ধ হোক

ভুয়া সিমের পথ বন্ধ হোক

দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের বড় অংশ এখন মোবাইলের মাধ্যমে হচ্ছে। বেতন, রেমিট্যান্স, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা এবং টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে এমএফএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ব্যবস্থা মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। একই সঙ্গে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, অর্থ পাচার এবং সন্দেহজনক লেনদেনে মোবাইল নম্বর ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই সিম নিবন্ধন ও এমএফএস ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। সরকার যে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, তা অবশ্যই ইতিবাচক। সিম নিবন্ধনের সময় গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য অপারেটরদের কাছে সংরক্ষণ না করে কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এনআইডি যাচাই করার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলার সময় পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগও প্রয়োজনীয়। মৃত ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম বন্ধ করার ব্যবস্থা অপরাধ দমনে সহায়ক হবে। ভুয়া সিম ও প্রি-অ্যাকটিভেটেড সিম বন্ধের উদ্যোগও কার্যকর করা দরকার। তবে শুধু নতুন আইন বা নিয়ম করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইনের কার্যকর প্রয়োগ। অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। অনেক সময় সেই নিয়ম বাস্তবায়নে দুর্বলতা দেখা গেছে। ফলে অপরাধীরা নতুন কৌশলে একই অপরাধ চালিয়ে গেছে। এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হবে।

শুধু সিম নিবন্ধন কঠোর করলেই হবে না। একজন ব্যক্তির এনআইডি, সিম, এমএফএস অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের আচরণের মধ্যে কোনো অসংগতি আছে কি না, তা শনাক্ত করার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একজন ব্যক্তির নামে অনেকগুলো সিম থাকতে পারে। তার একাধিক আর্থিক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। এটি অপরাধ নয়। সমস্যা তৈরি হয় যখন এসব অ্যাকাউন্ট ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হয় বা অস্বাভাবিক লেনদেনে ব্যবহৃত হয়। এ জন্য সিম ও এমএফএসের তথ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। এনআইডি তথ্যের সঙ্গে সিমের মালিকানা যুক্ত করতে হবে। সিমের সঙ্গে এমএফএস অ্যাকাউন্টের সম্পর্ক যাচাই করতে হবে। এরপর সেই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণ করতে হবে। একই ব্যক্তি হঠাৎ অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন কি না, অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ লেনদেন করছেন কি না, একই ধরনের লেনদেন বারবার হচ্ছে কি না, এসব বিষয় নজরদারিতে রাখতে হবে। তবে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির ক্ষেত্রে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের হাতে বিপুল ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে। এসব তথ্যের অপব্যবহার যেন না হয়, সে জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। একজন নাগরিকের পরিচয় একবার নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই হবে। সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে তার সিম, এমএফএস এবং অন্যান্য ডিজিটাল আর্থিক সেবা যুক্ত থাকবে। এতে ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সুযোগ কমবে।

বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে নিরাপদ করতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান প্রদান বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী শনাক্ত হলে নিতে হবে দ্রুত ব্যবস্থা। নিরাপদ সিম ও এমএফএস ব্যবস্থা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়। এটি নাগরিকের অর্থ, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই সরকারের নতুন উদ্যোগকে কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল করতে হবে। একটি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত