ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ

হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

৪১টি তফসিলি ব্যাংকের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড থেকে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'-এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. ইসমাইল হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে। দুদক সচিব সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'-এর সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি ট্রাস্ট সম্পত্তির দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন- এমন তথ্যও এজাহারে রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া ৪১টি ব্যাংকের তথ্য ও নথি পর্যালোচনার বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার বিএবির সভাপতি থাকাকালে নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও 'বিবিধ' আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সভায় এ বিষয়ে সদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের সিএসআর-সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ২০২২ সালের 'পলিসি গাইডলাইনস অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন'- এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হলেও ট্রাস্টটিতে এ ধরনের অর্থ দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই।

এজাহারে আরও বলা হয়, সরেজমিন পরিদর্শনে ট্রাস্টের ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। এছাড়া, তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত