ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই

জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই। র‍্যাব বিলুপ্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় না করে নতুন সংস্থায় তা হস্তান্তর করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬' নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাব মতে আমরা নিয়েছি। তারা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। তার পরের দফায় যে সংশোধনী, এটা হচ্ছে ক্লারিক্যাল মিস্টেক— উপধারা দুইয়ের মধ্যে একটা ব্র‍্যাকেট বন্ধন। এটুকু।' বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'কোনো পরামর্শ ছাড়াই এত দ্রুত বিলটি পাস করা যোগ্য— এটা তারা বলেছেন। আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ছিল, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল, প্রতিশ্রুতি ছিল বিলুপ্ত করা হবে। আমাদের নির্বাচন ইশতেহারে ছিল, সব পক্ষের দাবি ছিল র‍্যাব আমরা বিলুপ্ত করছি।' তিনি বলেন, 'এখন এই বিল যতই বিলম্বিত হবে, র‍্যাব কিন্তু অস্তিত্ব ঠিকই রয়ে যাবে, র‍্যাবই রয়ে যাবে। এখন বিরোধী দলীয় সদস্যরা কি তাই চান?' বিল নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা ও পরামর্শ হয়নি— বিরোধীদের এমন বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আলোচনা-পরামর্শ প্রথম সেশন থেকে আমরা এর ওপর বক্তব্য রাখছি। দ্বিতীয় সেশন হয়েছে। তৃতীয় সেশনে আমরা এটা... ক্যাবিনেটে বিলটা যখন বিবেচনার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তার আগের যে কর্মপদ্ধতি, সেই পদ্ধতি অনুসারে আমরা এটা ওয়েবসাইটে দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সেটা দীর্ঘদিন ছিল।' তিনি বলেন, 'বিলটা এখানে উত্থাপনের পরে আমরা চার-পাঁচ কার্যদিবসে সেটা আলোচনা করেছি। স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করেছি। বাইরের স্টেকহোল্ডারদের আমরা বিভিন্ন মতামত ওয়েবসাইটে পেয়েছি। সবগুলো কনসিডার করেছে। সুতরাং আলোচনা হয়েছে, পরামর্শ হয়েছে।' র‍্যাব থেকে এসআরবিতে স্থানান্তরের সময় রেকর্ড কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে— বিরোধীদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আপনি বিশিষ্ট আইনজীবী। রেকর্ড হস্তান্তরের বিষয়টা হচ্ছে একটা প্রসিডিউরাল ম্যাটার। এখানে এই বিষয়টা উত্থাপনের কোনো সুযোগই নাই। রেকর্ডটা বিধি অনুসারে রাখা।' এসআরবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ধারা ২৪-এর অভিযোগ প্রতিকার কমিটি যথাযথভাবে কাজ করতে পারবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ধারা ২৪ হচ্ছে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন ইত্যাদি। ভেতরে তো আছে, ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, বাইরের কোনো লোক দ্বারা উত্থাপিত অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনের জন্য এই কমিটি।' তিনি আরও বলেন, 'এটা কোনো ক্রাইমের ক্ষেত্রে না। অভিযোগটা হচ্ছে, কোনো প্রাইভেট ইন্ডিভিজুয়াল এই এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অথবা এসআরবিরই কোনো সদস্য যদি অভ্যন্তরীণ, উইদইন ব্যাটালিয়ন কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, সেটা বিচারের কর্মপদ্ধতির জন্য একটা কমিটি গঠন।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এটা ডিপার্টমেন্টাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ, উইদইন ফোর্স। সে ডিসিপ্লিন ব্রেক করল, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে সেখানে হাইকোর্টের বিচারপতিকে করার কোনো সুযোগ নাই। আর হাইকোর্টের বিচারপতিকে যদি হেড করা হয়, তাহলে অ্যাডিশনাল আইজি প্রধান হিসেবে তার নিচে থাকতে হবে। এটা ডিপার্টমেন্টাল বিষয়।' তিনি বলেন, 'আপনারা আসলে যেটা মিন করতে চেয়েছেন, সেটা হচ্ছে কোনো ক্রাইমের ক্ষেত্রে যদি এই বাহিনীর সদস্যরা কোনো ক্রাইম করে থাকেন। এই অভিযোগ সেই অভিযোগ না। ইট ইজ আন্ডার সেকশন ২১।' ধারা ২১-এর ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ইউনিটের সদস্য কর্তৃক সংগঠিত শৃঙ্খলা লঙ্ঘন। ধারা ১৭-তে বর্ণিত শৃঙ্খলা ব্যতীত। যেটা ডিসিপ্লিনেরই অ্যাকশন, যেটা বলি আমরা সিভিল সার্ভিসে, যেটা বলা হয় সার্ভিস অ্যান্ড ডিসিপ্লিন রুলস অনুসারে যেটা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সেটার মতই।' তিনি বলেন, 'ধারা ১৭-তে উল্লেখ করা আছে কোন কোনগুলো ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন হবে। যেমন কর্তব্য পালনকালে মাতাল থাকলে, নেশাগ্রস্ত থাকলে, কারও ওপর বা কোনো কর্তব্যরত সদস্যকে আঘাত করলে, পেট্রোল ডিউটিতে না গেলে, ছুটি ছাড়া উপস্থিত থাকলে, অনুপস্থিত থাকলে, আইনসঙ্গত কোনো কাজ করতে অস্বীকার করলে ইত্যাদি।' 'এইগুলো হচ্ছে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন বা ইন্ডিসিপ্লিন হওয়ার জন্য যে অ্যাকশনটা নেবে, সেটা এভাবে নির্ধারণ করা আছে— একদম সেকশন ওয়াইজ ১৮, ১৯, ২০, ২১। তবে বলছে, যদি কোনো সদস্য ক্রাইম করে থাকে, সেটা এখানে ২১ আছে— ধারা ১৭-তে বর্ণিত শৃঙ্খলা ব্যতীত ইউনিটের সদস্য কর্তৃক অন্য কোনো শৃঙ্খলা লঙ্ঘিত হইলে তাহার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। ক্লিয়ার।'

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত